অ্যাবিউ ফলসহ গাছ। রাজধানীর আগারগাঁও বৃক্ষমেলায়, ১৪ জুলাই
অ্যাবিউ ফলসহ গাছ। রাজধানীর আগারগাঁও বৃক্ষমেলায়, ১৪ জুলাই

বৃক্ষমেলায় আমাজনের হলুদ সফেদাসহ নানা বিদেশি ফলের গাছ

মাঝারি আকারের একটি গাছে পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ রঙের ফল। যে কাউকে ফলটি আকর্ষণ করবে দূর থেকে। এটি বাংলাদেশে পরিচিত হলুদ সফেদা নামে। একসময় জামান ফল নামে ডাকা হতো। এটি সাধারণত আমাজন বা ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে হয়। এর স্বাদ মিষ্টি। এ ফলে থাকে প্রচুর মিনারেলস। এই ফলের গাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের বৃক্ষমেলায়।

আজ মঙ্গলবার বৃক্ষমেলায় গিয়ে দেখা যায়, শুধু হলুদ সফেদা নয়, মেলায় আছে এমন নানা প্রজাতির বিদেশি ফলের গাছ, যেগুলো সচারচর পাওয়া যায় না। যেমন ব্ল্যাক সাপোটে, হোয়াইট সাপোটে, নানা প্রজাতির রাম্বুটান, চেরি ফল, ককোনাট, নানা প্রজাতির আঙুর, ট্যাং ফল, আনারকলি ইত্যাদি।

ফল গাছগুলোর প্রজাতি ও মান অনুযায়ী দামও ভিন্ন। যেমন হলুদ সফেদা ফল গাছটি প্রদর্শনীতে রেখেছে ট্রপিক্যাল ফ্রুট পার্ক। এই বাগানের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমেদ জানান, প্রতিটি গাছের চারা আকারভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। আর ফল ধরা অবস্থায় গাছটি নিতে চাইলে গুনতে হবে ২০ হাজার টাকা।

জুয়েল আহমেদের সংগ্রহে থাকা গাছের মধ্যে একটি মামি সফেদা। এই ফল মেক্সিকো এবং আমেরিকা অঞ্চলের। তবে এবার এই গাছ শুধু প্রদর্শনীর জন্যই রাখা হয়েছে। জুয়েল বলেন শিগগিরই বিক্রি শুরু করবেন।

এ ছাড়া ব্ল্যাক সাপোটে, হোয়াইট সাপোটে, ককোয়া ফলসহ এই স্টলে ১ হাজার ৪০০ ধরনের ফলের গাছের চারা আছে বলে জানান জুয়েল আহমেদ। তিনি বলেন, যেসব গাছ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযুক্ত, সেগুলোই শুধু বিক্রি করা হচ্ছে। এই গাছগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে লাগানো গেলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

রাম্বুটান ফলসহ গাছ প্রদর্শনীতে রেখেছেন বিক্রেতারা। রাজধানীর আগারগাঁও বৃক্ষমেলায়, ১৪ জুলাই

বারোমাসি আঙুর ফল

সচরাচর গ্রীষ্মের শেষের দিকে আঙুর ফলের দেখা মিললেও মেলায় দেখা গেল বছরজুড়ে ফল দেওয়া আঙুরগাছ। আঙুর ঝুলছে এমন গাছ রেখেছে খান নার্সারি।

বিক্রেতা জানান, এটি রাশিয়ান বাইকুনুন জাতের আঙুর ফল। এই আঙুরগাছের বিশেষত্ব হলো এটি বছরের পুরো সময় ফল দেয়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে খান নার্সারি ফলসহ গাছ প্রদর্শনীতে রেখেছে। তবে সঙ্গে বেশকিছু ছোটবড় গাছও রেখেছে তারা।

নার্সারির পরিচালক সজীব আহেমদ জানান, তাঁর এখানে দুই প্রজাতির রাম্বুটানগাছও আছে। ফলসহ বড় রাম্বুটানগাছের দাম ৬০ হাজার টাকা। আর ছোট রাম্বুটানগাছের দাম ৪০ হাজার টাকা। তবে ক্রেতা চাইলে দামাদামি করে কিছু টাকা কমেও বিক্রি করবেন বলে জানান এই বিক্রেতা। ফল ছাড়া রাম্বুটান ফল গাছও আছে বাগানে। ছোট প্যাকেটে এসব গাছের চারার দাম ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

ফুজি আপেলসহ গাছ। বিক্রেতা দাম চান ৪০ হাজার টাকা। রাজধানীর আগারগাঁও বৃক্ষমেলায়, ১৪ জুলাই

আপেলগাছের দাম ৪০ হাজার টাকা

খান নার্সারিতে একটি ফুজি আপেলসহ গাছ প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। বিক্রেতা জানান, এই গাছ চীন থেকে তিনি আমদানি করেছেন। তাই এই গাছের দাম ৪০ হাজার টাকা। তবে এখানে আপেলগাছের চারার দাম ১ হাজার টাকা থেকে শুরু।

অন্য আপেলগাছ বছরে একবার ফল দেয়। বিক্রেতা জানান, ফুজি আপেলগাছ বছরে দুবার ফল দেবে। তবে এই গাছের যত্ন ঠিকমতো করতে হবে।

খান নার্সারির পরিচালক সজীব আহেমদ বলেন, ‘৭০ থেকে ৮০ জাতের ফল গাছ আছে আমাদের কাছে। আর ফুল গাছ আছে ১০০ প্রজাতির বেশি।’ গাছগুলো পরিচর্যার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পরিচর্যার কৌশলও বলে দেন বিক্রেতারা।

দাম কিছুটা বেশি

মেলায় এসে গাছ কেনেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। তাঁদের অনেকে অভিযোগ করেন, অন্য সময়ের তুলনায় এবার বৃক্ষমেলায় গাছের দাম কিছুটা বেশি।

একটি নার্সারি থেকে একটি করে অ্যাভোকাডো, মালবেরি, রাম্বুটান, লটকনগাছ কেনেন নারগিস সুলতানা। তিনি মিরপুর থেকে এসেছিলেন। চারটি গাছে নারগিস সুলতানা খরচ করেছেন পাঁচ হাজার টাকা।

গাছের দাম তাঁর কাছে বেশি মনে হলেও গাছের মানের কথা ভেবে কিনেছেন উল্লেখ করে নারগিস বলেন, ভালো জাতের গাছ হলে আফসোস থাকবে না। তিনি মিরপুরে তাঁর নিজ বাসার ছাদে বাগান করেন। বাগানে ৬০ ধরনের বিভিন্ন ফলের গাছ আছে।

হেমায়েতপুরে গ্রামের বাড়ির জন্য একটি আমগাছ কেনেন ঢাকা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মাহাদুল হাসান। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) স্টল থেকে তিনি গাছটি কেনেন ৩০০ টাকায়। তিনি বলেন, বেসরকারি বাগানে এই গাছের দাম আরও বেশি চেয়েছিল। পরে বিএডিসির স্টল থেকে কেনেন।