
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে আরও একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে পুলিশের তৎকালীন মোহাম্মদপুর জোনের ডিবির পরিদর্শক মনিরুজ্জামান সাক্ষ্য দেন। তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাঁকে জেরা করেন। এ নিয়ে মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।
আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, জেরা শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে মামলার বাদী বদিউল আলম মজুমদারকে আবার জেরার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে গত ১৯ জুলাই দুজন সাক্ষ্য দেন। বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আসামিদের মধ্যে ছয়জন আদালতে হাজিরা দেন।
মামলার আসামিরা হলেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি নাইমুল হাসান, মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদ, ফিরোজ মাহমুদ, মীর আমজাদ হোসেন, সাজেদুল ইসলাম, রাজীবুল ইসলাম, শহিদুল আলম খান, সিয়াম ও অলি আহমেদ। এ মামলায় সবাই জামিনে আছেন।
এঁদের মধ্যে মীর আমজাদ হোসেন, সাজেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম আদালতে সশরীর হাজির না হওয়ায় আইনজীবী তাঁদের উপস্থিতির জন্য সময় আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং তাঁদের অনুপস্থিততে আসামিপক্ষের আইনজীবীর সাক্ষীকে জেরা অনুমোদন করেন আদালত।
২০১৮ সালের ১০ আগস্ট রাতে বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুর রউফ ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়।
২০২২ সালের ২৮ মার্চ এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়জন সাক্ষ্য দেন। তাঁদের মধ্যে বদিউল আলম মজুমদার, খুশি বেগম ও মাহবুবুল আলম মজুমদার জবানবন্দিতে মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদের নাম উল্লেখ করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরী মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ডিবির সহকারী পুলিশ সুপার রাজন সাহা বাদী বদিউল আলম মজুমদারের শ্যালক মোহাম্মদ ইশতিয়াক মাহমুদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে একই বছরের ১৯ নভেম্বর ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।