
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অষ্টম ইনডোর গেমসের ক্যারম টুর্নামেন্টে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ইনডোর গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি বিব্রতকর। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়কের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপাচার্য আরও জানান, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে এক শিক্ষার্থীর গায়ে অন্য শিক্ষার্থীর হাত তোলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসংগত আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইনডোর গেমস পরিচালনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ক্রীড়া উপকমিটির আহ্বায়ককে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সদস্যসচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান উপাচার্য।
গত বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অষ্টম ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতা ২০২৬’–এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ক্যারমের ফাইনাল খেলা চলাকালে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে খেলোয়াড় সাদিয়া ও জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ারের মধ্যে কথা–কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তাঁরা একে অপরকে পাল্টাপাল্টি হুমকি দেন। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষে জর্জিসকে থাপ্পড় দেন সাদিয়া।
এ ঘটনার পর সাদিয়া নিজের ফেসবুক আইডিতে ক্রীড়া সম্পাদককে উদ্দেশ করে সতর্কবার্তা দিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘মিস্টার জর্জিস আনোয়ার নাইম (ক্রীড়া সম্পাদক, জকসু), এরপর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। এখন তো শুধু একটা দিছি। আপনার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আপনার ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা লিখতেছে আমি নাকি স্যারের পাওয়ার দেখিয়ে আপনার গায়ে হাত তুলছি। যেখানে অন্যায় আপনার, অন্যায়ভাবে নিয়মের (রুলস) বাইরে গিয়ে দুইটা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন, সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।’