
দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও বৈচিত্র্যময় পণ্যগুলো এক ছাতার নিচে এনে শুরু হয়েছে ঈদ ফিয়েস্তা–২০২৬। নানা নকশার পোশাক, গয়না, ব্যাগসহ হরেক রকম পণ্য রয়েছে এ মেলায়।
আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত মাইডাস সেন্টারে মেলার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ওয়েব পোর্টাল ‘হাল ফ্যাশন’ দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করছে ঈদ ফিয়েস্তা।
দেশি পণ্য এবারের ঈদে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলায় বৈচিত্র্যময় পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছেন দেশের ৫৮ জন উদ্যোক্তা।
আজ সকাল ১০টায় ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারের ১২ তলায় এই মেলা শুরু হয়। বেলা তিনটায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা। দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে ক্রেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, এই উদ্যোক্তাদের বাঁচাতে রাষ্ট্রের চেয়ে ক্রেতাদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চন্দ্র শেখর সাহা মনে করেন, ক্রেতাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যম। তিনি বলেন, ‘মিডিয়া যেন ক্রেতাদের সচেতনতা নিয়ে বারবার কাজ করে। তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তারা এগিয়ে যাবেনই।’
চন্দ্র শেখর সাহা মনে করেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ যদি ব্যক্তিগত কেনাকাটার ৫০ শতাংশ দেশি পণ্য ক্রয় করেন, তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তারা আরও বেশি সাহস পাবেন। উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, সম্প্রতি রাস্তায় যে স্লোগান দেওয়া হয় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ দেশপ্রেমের এ কাজটা প্রথম আলো গত ২৮ বছর ধরে আচরণে প্রকাশ করেছে। যার অংশ হিসেবে প্রথম আলোর সঙ্গে প্রকাশিত নকশায় কখনো বিদেশি কোনো শাড়ি, গয়না, আসবাব বা কোনো পণ্য নিয়ে ছাপা হয়নি।
জমজমাট এই ঈদ ফিয়েস্তায় দেশের ৫৮ জন সৃজনশীল উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। পোশাক, গয়না, ব্যাগ, অন্যান্য অনুষঙ্গ, গৃহসজ্জার সামগ্রীর সঙ্গে এখানে পাওয়া যাচ্ছে স্কিনকেয়ার টেক, খাবার, আচার, অর্গানিক খাদ্যপণ্য আর ডিজিটাল সল্যুশনস। ক্রেতাদের জন্য হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা–২০২৬–এ থাকছে র্যাফল ড্র ও মেগা পুরস্কার।
আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন অভিনয়শিল্পী রুনা খান।
২০০৫ সাল থেকে দেশি পণ্যের ওপর জীবনধারণ করেন উল্লেখ করে অভিনেত্রী রুনা খান বলেন, ‘আমি সচেতনভাবে বলতে পারি, আমার নিজের উপার্জনের টাকায় আমার কোনো শাড়ি, গয়না বা জুতো দেশি পণ্য ছাড়া কেনা হয়নি।’
এই অভিনেত্রী জানান, দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভালোবেসে তিনি দেশি পণ্য ব্যবহারে সব সময় গুরুত্ব দেন। উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা যাতে তাঁদের পণ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে কাজ করেন। তরুণদের পছন্দকে গুরুত্ব দেন। কারণ, তরুণদের কাছে পৌঁছাতে না পারলে যাত্রা কিছুটা থমকে যেতে পারে।
এবারের ফিয়েস্তায় পোশাক ছাড়াও গয়না, বিষমুক্ত পণ্য ও খাবারের স্টল থাকছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়া যায়, ইপিবি সব সময় সেই বিষয় নিয়ে কাজ করছে।
উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে থেকে সম্মিলিতভাবে পথ চলতে চাই। বিশ্বের বিভিন্ন মেলায় আমরা আপনাদের নিয়ে যেতে চাই, যেখানে আপনারা আপনাদের উচ্চমানের পণ্য এবং রুচি ও শৈলীর যে উৎকর্ষ অর্জন করেছেন, সেটি তুলে ধরতে পারেন।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন হাল ফ্যাশনের পরামর্শক শেখ সাইফুর রহমান। সঞ্চালকের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা এই আয়োজনকে ফ্যাশন ফিয়েস্তা বলছি; কিন্তু এটা মেলার চেয়েও বেশি কিছু। যার মাধ্যমে আমরা ইন্ডাস্ট্রির সব অংশীজনকে একত্র করার চেষ্টা করেছি।’
প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও যুব কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মুনির হাসান উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে বলেন, এখন সময় হয়েছে দেশের বাইরে রপ্তানি করার। ইতিমধ্যে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও বিদেশে পণ্য পাঠান; কিন্তু এই উদ্যোগকে আরও বড় করার জন্য কাজ করতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম সরদার, অ্যাপেক্স কনভিনিয়েনস ফুডস লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অপারেশনাল চিফ মোহাম্মদ সাহেদুজ্জামান, এফইএবির সভাপতি আজহারুল হক আজাদ, কোরিওগ্রাফার ও মডেল আজরা মাহমুদ, কে ক্রাফটের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান, অঞ্জনসের শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ প্রমুখ।
হাল ফ্যাশনের জ্যেষ্ঠ কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাদিমা জাহান অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান।
গতবারের মতো এবারের মেলাতেও ক্রেতাদের জন্য থাকছে র্যাফেল ড্র। আছে আকর্ষণীয় সব উপহার। এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ ফটোবুথ। এখানে ছবি তুলে #haalfashioneidfiesta2026 ও #haalfashionista হ্যাশট্যাগ দিয়ে নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে হাল ফ্যাশনের সঙ্গে লিংক শেয়ার করতে হবে। সেখান থেকে বেছে নেওয়া হবে পাঁচজনকে। তাঁরা উপহারের পাশাপাশি পাবেন হাল ফ্যাশনে মডেল হওয়ার সুযোগ।
এবারের মেলাকে বলা হচ্ছে মেলার চেয়েও বেশি কিছু। প্রতিদিনই থাকছে কিছু না কিছু আকর্ষণ। প্রথম দিন উদ্বোধন। দ্বিতীয় দিন থাকছে ডিজাইনারস ডে। সেখানে তরুণ ডিজাইনাররা আসবেন, স্টল ঘুরে দেখবেন এবং মতামত দেবেন। তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দিন হচ্ছে ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি ডে। সেদিন দুই শীর্ষ ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি থেকে আসবেন ছাত্র ও শিক্ষকেরা। তাঁরাও মেলা নিয়ে তাঁদের অভিমত জানাবেন।