
প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পাস হলে কমিশন ‘সরকারের কর্তৃত্বাধীন’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ উদ্বেগের কথা জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, গত ১৭ মে সরকার আইনটির যে খসড়া তৈরি করেছে, তাতে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন প্যারিস নীতিমালাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ৮ জুন সরকারের কাছে ১৯ দফা সুপারিশ পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
টিআইবি জানায়, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে স্পষ্ট বলা ছিল, কমিশন সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন হবে না। কিন্তু নতুন খসড়ার ৩(২) ধারা থেকে ওই অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাহী বিভাগ কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটি নিয়েও আপত্তি তুলেছে টিআইবি। খসড়ার ৭ ধারা অনুযায়ী, এই কমিটিতে স্পিকার, দুজন মন্ত্রী, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে রাখা হয়েছে। টিআইবির মতে, এ ধরনের কাঠামোয় নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরির ঝুঁকি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার আটকস্থলে নিয়মিত পরিদর্শন এবং তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সংকুচিত করে খসড়ায় যে ২০ ধারা রাখা হয়েছে, তা বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে। টিআইবি বলেছে, মূলত এই দুর্বলতার কারণেই বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনস’ (জিএএনএইচআরআই) থেকে কখনোই ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদা পায়নি।
এ ছাড়া কমিশনে কমপক্ষে দুজন নারী ও একজন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রাখা, সরকারি কর্মচারীদের চাকরিরত অবস্থায় কমিশনার নিয়োগের সুযোগ বাতিল করা এবং কমিশনের বাজেটে আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতাসীন দল থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ নাগরিক—সবাই এর ভুক্তভোগী হবেন।