জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও তাঁর কারামুক্তি আটকে গেল।
আজ রোববার পুলিশের আবেদনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত আবুল বারকাতকে আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এদিন আদালতে পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন।
শুনানির সময় আবুল বারকাতকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম। আদালত আগামীকাল সোমবার সেই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে তাঁর কয়েকটি মামলায় জামিন আদেশ হয়। কিন্তু নতুন এই মামলায় গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাঁর কারামুক্তি আটকে গেছে।’
আবুল বারকাতকে গত বছরের ১০ জুলাই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
আবুল বারকাত দুদকের ওই মামলায় ৭ জুন আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান। তবে এর পরই তাঁকে আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার।
সেই আবেদনে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ), ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে আবুল বারকাত জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর নিউমার্কেট থানার নীলক্ষেত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ। এ ঘটনায় তাঁর শ্যালক আবদুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।