
গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, শ্রমিকের পরিশ্রম ও ঘামের টাকায় দেশের এই উন্নয়ন। অথচ সেই শ্রমিককেই আজকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পেটে টান পড়ায় তাঁরা বেতন বাড়ানোর দাবি করছেন।’
‘মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে পুলিশি হামলা ও গুলি করে শ্রমিক হত্যা, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মসূচিতে হামলা এবং দেশজুড়ে চলমান স্বৈরাচারী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখানে সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, শ্রমিক হত্যার পরিণাম হবে ভয়াবহ।
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাগীব নাঈম বলেন, একজন কার্টুনিস্টকে কার্টুন আঁকার জন্য জেলে যেতে হয়, লেখক-প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। রাজনৈতিক সমাবেশ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়, পুলিশ চড়াও হয়। শান্তি সমাবেশের নামে লাঠি-রড-চাপাতি দিয়ে ভয় দেখানো হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন ও ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। এসবের প্রতিদান এই সরকার পাবে। প্রতিটি খাতে দুর্নীতির হিসাব এই সরকারকে দিতে হবে। জনরোষে তারা টিকতে পারবে না।
ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শিমুল কুম্ভকার বলেন, শ্রমিকের শ্রম ও ঘামের টাকায় দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। অথচ তাঁকেই আজ গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পেটে টান পড়ায় তাঁরা ২৫ হাজার টাকা বেতন দাবি করছেন। যে ব্যক্তিরা শ্রমিকের শ্রমে উপার্জিত টাকা পাচার করছে, আরাম-আয়েশ করছে, তাদের সব ধরনের সুবিধা ও জোচ্চুরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক হত্যার প্রতিশোধ জনগণ একদিন নেবে। সেদিন স্বৈরাচার পালানোর রাস্তা খুঁজে পাবে না। শ্রমিক হত্যার পরিণাম হবে ভয়াবহ।
ছাত্র ইউনিয়নের এই অংশের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বসুর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি বিল্লাল হোসেন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাঈন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। সেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।