
সারা দেশে চলমান নারী ও শিশু নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতিবাদে মশালমিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মহানগর শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মশালমিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর, হলপাড়া, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় মসজিদ হয়ে আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।
মশালমিছিল শুরুর আগে পল্লবীতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশুর বাবার সেই আকুল আর্তনাদ ‘আমি বিচার চাই না, আপনাদের বিচার করার রেকর্ড নাই’ মাইকে প্রচার করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন ভাগ্যহত পিতার এই একটি বাক্যই প্রমাণ করে দেশের বিচারব্যবস্থা আজ কতটা দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্র যখন অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়, তখন আদালতের প্রতি নাগরিকদের আর আস্থা থাকে না। তাঁরা অবিলম্বে পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সেই শিশুসহ সব হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জবাবদিহিমূলক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আল-আমীন রহমানের সভাপতিত্বে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিবুর রহমান, সহসভাপতি সীমা আক্তার, সহসাধারণ সম্পাদক হৃদিয়া আফরোজ রাকা, ঢাকা মহানগর শাখার সদস্যসচিব তুহিন ফরাজি ও নির্বাহী সদস্য ইয়াছির খান।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, ‘দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার যে অবনতি, তা ঠেকাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেননি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সারা দেশে যখন ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সভা-সমাবেশ চলছে তখন অনেকে নানাভাবে এখানে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের “পাঁয়তারা” করছেন।’
ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আল-আমীন রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ধর্ষণ বিষয়ে যত মামলা দায়ের হয়েছে তার মাত্র ৩ শতাংশ মামলার বিচারকাজ হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ মামলার ক্ষেত্রে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে। অন্য মামলাগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।’
ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘এক বছর আগে ঢাবির নারী শিক্ষার্থীরা রাতে হলের গেট ভেঙে বেরিয়ে এসে মাগুরায় ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশুর বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সেই মামলা এখন আপিল বিভাগে ঝুলছে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ, কেউই আজ নিরাপদ নয়। একের পর এক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অপরাধ ঘটলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।