করোনা মহামারি

করোনায় অন্তঃসত্ত্বা মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি

করোনার ডেলটা ধরনের সংক্রমণের পর অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের মৃত্যু বাড়িয়ে দিয়েছে। এঁদের চিকিৎসায় সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা মাহামুদা আক্তার। করোনা পজিটিভ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ৬ আগস্ট সকালে।
 তানভীর আহাম্মেদ

‘একটি জীবিত পুত্রসন্তান বুঝিয়া পাইয়াছি’—হাসপাতালের নথিতে এ কথা লিখে স্ত্রী ইশরাত জাহানের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন গাজীপুরের শহীদুল ইসলাম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ৪ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে মারা যান করোনায় আক্রান্ত ইশরাত। ৩১ বছর বয়সী এই মা ২৮ জুলাই হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।

মুঠোফোনে শহীদুল ইসলাম জানালেন, এর আগে তাঁর স্ত্রীর গর্ভপাত হয়ে ভ্রূণ নষ্ট হয়েছে তিনবার। বিয়ের ছয় বছরের মধ্যে এবারই প্রথম গর্ভধারণের পর বেশ সুস্থভাবে দিনগুলো পার করেছিলেন তিনি। ২০ জুলাই করোনা পরীক্ষায় ফল আসে পজিটিভ। ২৪ জুলাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারকে একটি ছেলেসন্তান উপহার দিয়ে চলে গেলেন ইশরাত।

শহীদুল জানালেন, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে সর্বশেষ করোনার চিকিৎসা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শেষ ১২ দিন হাসপাতালের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটিও ছিল না, কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাঁকে। মা-হারা সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন শহীদুলের মামা আর মামি।

মাতৃমৃত্যুর হার কমানোকে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এখন রাজধানীর দুটি বড় হাসপাতালের তথ্য বলছে, করোনায় আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত কতজন মা মারা গেলেন, সে তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করছে না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, করোনার ডেলটা ধরন (ভারতে উৎপত্তি) অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের মৃত্যু বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি করোনাভাইরাসের আগের ধরনগুলোর চেয়ে বেশি সংক্রামক। বাংলাদেশে গত ৮ মে প্রথম ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়।

ঢাকায় করোনা–আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের চিকিৎসা

করোনায় আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ঢাকার সব হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। তবে বেশি ভর্তি করা হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত বছর করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির পর ৭৬ জন অন্তঃসত্ত্বা মায়ের করোনা শনাক্ত হয়। গত বছরে এই হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত কতজন মা মারা গেছেন, সে তথ্য নেই। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এখানে ১৪ জন অন্তঃসত্ত্বা মা মারা গেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পজিটিভ মায়েদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড আছে। আছে ২০ শয্যার আইসিইউ, যেখানে অন্য করোনা রোগীদের সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আইসিইউতে শয্যা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক শিখা গাঙ্গুলী প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ভর্তির চাপ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। করোনা সংক্রমণ যখন একটু কম ছিল, তখন বিভাগের অধীনে দৈনিক হয়তো ২০ জন মা ভর্তি হতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যাটা দৈনিক ৮০ বা ১০০ জনে দাঁড়াচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো একটু দেরিতে ভর্তি হচ্ছেন, কেউ করোনা পরীক্ষা করাতে দেরি করছেন। আবার কারও কোনো উপসর্গ নেই অথচ গর্ভের সন্তান গর্ভেই মারা গেছে—এ অবস্থায় আসছেন। নানান জটিলতা নিয়ে মায়েরা আসছেন। যে মায়েরাই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বা কোনোভাবে পরামর্শ চাইছেন, তাঁদের টিকা নিতে উৎসাহী করা হচ্ছে।

করোনার জন্য নির্ধারিত মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১০২ জন। এই সময় মারা গেছেন ১১ জন। আর শুধু গত জুলাই মাসে করোনা পজিটিভ অন্তঃসত্ত্বা মা ভর্তি হন ৪৮ জন। মারা গেছেন ৫ জন। এ সময়ে করোনায় দুই নবজাতকও মারা যায়।

গত বছরেও মুগদা মেডিকেলে করোনায় আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ওই বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি হন ৫৩ জন। মারা যান ৪ জন। একজন নবজাতকও তখন মারা গেছে। দুটি মৃত সন্তান প্রসব করেন দুজন মা। হাসপাতালের হিসাব বলছে, বেশির ভাগ মা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

এই দুই হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি ফেরদৌসী বেগম প্রথম আলোকে বলেন, করোনার ডেলটা ভেরিয়েন্ট আসার পর অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের অবস্থা বেশি খারাপ হচ্ছে। মায়েরা মারাও যাচ্ছেন বেশি। করোনা হয়নি এমন মায়েদের ১০০ জনের মধ্যে ১ জন মাকে হয়তো আইসিইউতে পাঠাতে হয়। আর করোনায় আক্রান্ত ১০০ জনের মধ্যে ১০ জনকেই আইসিইউতে পাঠাতে হচ্ছে।

গর্ভবতী মা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বাড়তি কিছু জটিলতা দেখা দেয়। ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড বারডেম হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী বেগম বলেন, গর্ভাবস্থার ২৮ সপ্তাহের পরে করোনা হলে মায়ের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। আর করোনার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, হৃদ্‌রোগ, বেশি ওজন, ৩৫ বছরের বেশি বয়সসহ অন্যান্য জটিলতা থাকলে মায়েদের মৃত্যুও হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত মায়েদের গর্ভস্থ ভ্রূণের মৃত্যু এবং অপরিণত বা সময়ের আগেই সন্তান প্রসবের হার দ্বিগুণ হতে পারে।

দেশে কোভিড-১৯ ও অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের বিষয়টি নিয়ে সেভাবে গবেষণা হয়নি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ইউরোপে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য রয়্যাল কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস এবং অন্যান্য সংস্থার করা একটি গাইডলাইনের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়, মায়ের করোনা হলে গর্ভের সন্তানের করোনা হবে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন চিকিৎসকেরা। তবে ভাইরাসটি গর্ভস্থ সন্তানের দেহে ছড়িয়ে পড়বেই, বিষয়টি তেমন নয়। আর এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে নবজাতকের করোনা সংক্রমিত হয়।

করোনায় এতিম হওয়া শিশুদের নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী ল্যানসেট। গত ২০ জুলাই প্রকাশিত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, নারীদের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মৃত্যু বেশি হয়েছে। অর্থাৎ প্রজননক্ষম বয়সে নারীরা বেশি মারা গেছেন।

পরিবারের ভোগান্তি

আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইনফি ইয়াসমিনের স্বামী গত ৩০ জুলাই মারা যান। রাজধানীর একটি হাসপাতালে ১০ দিন আইসিইউতে স্বামীর দেখভাল করেছেন ইনফি। স্বামী মারা যাওয়ার চার দিনের মাথায় ইনফি নিজে এবং ৯ বছরের ছেলেও করোনায় আক্রান্ত হন। ইনফি প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়েছি, তা-ই মানতে পারছি না। তারপর নিজে এবং ছেলেরও করোনা হলে খুব ভয় পেয়েছিলাম। তবে বাসায় চিকিৎসা নিয়েই এখন পর্যন্ত ভালো আছি।’

মৌলভীবাজারের বড়লেখার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী মুঠোফোনে জানালেন, বিয়ের সাড়ে ছয় বছর পর আইনজীবী স্ত্রী কানিজ রেহনুমা সন্তানসম্ভবা হয়েছিলেন। স্ত্রী যাতে নিরাপদ থাকেন, তাই তাঁকে সিলেটে রাখা হয়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গত ১৪ জুলাই সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কানিজ সন্তান পেটে নিয়ে মারা যান।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বেসরকারি মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল এবং ১৪ জুলাই আবার এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কানিজকে নিয়ে চলে ছোটাছুটি। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া যায় কি না, তারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

খন্দকার মুদাচ্ছির মনে করেন, এমন মায়েদের চিকিৎসায় ঢাকাসহ সারা দেশের হাসপাতালে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। কারণ, এই মায়েদের চিকিৎসায় চিকিৎসকেরাও খানিকটা দ্বিধায় থাকেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না হলে এই রোগীদের বাঁচানো কঠিন।

করণীয় ঠিক করতে দেরি

৩১ জুলাই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদানে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে অন্তঃসত্ত্বা রাশিদা চৌধুরীসহ চার আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। এর আগে মোহাম্মদ হুমায়ন কবিরসহ সুপ্রিম কোর্টের দুজন আইনজীবী সরকারের তিন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তি বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান। এরপর জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি ২ আগস্ট সিদ্ধান্ত দেয়, অন্তঃসত্ত্বা এবং দুধ পান করানো মাকে করোনার টিকা দেওয়া যাবে।

প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী বেগম যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে টিকা দেওয়া হয়েছে, টিকা নিরাপদ নয় এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। টিকা নিলে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। তাই মায়েদের বাড়ি বা কর্মস্থলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখা গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারির সময় স্বাভাবিক সেবাদান বাধাগ্রস্ত হয়েছে মূলত চারটি কারণে। সেবাগ্রহীতারা সংক্রমণের আশঙ্কায় প্রয়োজনের সময় সেবাকেন্দ্রে যাননি, তাঁরা সেবা নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। একইভাবে সেবা প্রদানকারীদের অনেকেই সেবাকেন্দ্রে অনুপস্থিত থেকেছেন। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহের ঘাটতির কারণে সেবা বিঘ্নিত হয়েছে। আবার চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনা চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করায় কিছু ক্ষেত্রে জনবলসংকটের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব কারণে অনেক গর্ভবতী মা প্রয়োজনীয় প্রসব–পূর্ব সেবা পাননি। এটা মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, দেশে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৩২ লাখ নারী গর্ভধারণ করেন। অনেক আগে থেকেই এই মায়েদের জন্য সরকারের পরিকল্পনাটা আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন ছিল। করোনার এই সময়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের প্রসব–পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা পেতে ঝামেলা হচ্ছে।

করোনায় আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জনসমাগম ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। খুব প্রয়োজন না হলে ভ্রমণ না করা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছে না যাওয়ার কথাও বলছেন তাঁরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান বেগম নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, গর্ভাবস্থার ৩৪ সপ্তাহ বা বেশি হলে এবং করোনায় আক্রান্ত মায়ের শ্বাসকষ্ট হলে পরিস্থিতি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হয়ে যায়। তাই যে নারীদের এই সময়ে সন্তান না নিলে তেমন সমস্যা হবে না (নারীর বয়স বেশি না হলে), তাঁদের এই সময়ে সন্তান না নেওয়াই ভালো। সন্তান জন্মের আগে মোট আটবারের মধ্যে চারবার সরাসরি সেবাকেন্দ্রে গিয়ে এবং চারবার টেলিফোনে সেবা নিতে হবে। সন্তানের জন্মের পর মা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বুকের দুধ খাওয়াবেন।

বর্তমানে করোনা মহামারির মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকায় অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবী প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে করোনা আর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করাতে হবে এবং করোনা বা ডেঙ্গু পজিটিভ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।