শ্বাসতন্ত্রের রোগ কোভিড-১৯–এর সঙ্গে আবহাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা বের করতে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা গবেষণা।

গরমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না, এরই মধ্যে এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবে শীতের সঙ্গে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় কি না, তা নিয়ে এখনো আলোচনা রয়েছে। এরই মধ্যে সরকার আশঙ্কা করে আসছিল, শীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। দেশে শীত পুরোপুরি শুরু না হলেও করোনা সংক্রমণ আবার বেড়েছে। কিন্তু গবেষকেরা শীতের সঙ্গে করোনার সম্পর্ক নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
শ্বাসতন্ত্রের রোগ কোভিড-১৯–এর সঙ্গে আবহাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা বের করতে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা গবেষণা। বাংলাদেশেও এমন কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় তাপমাত্রা ও সূর্যালোকের সঙ্গে সংক্রমণ বাড়া-কমার একধরনের সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে সেসব গবেষণা থেকে শীত ও করোনার সম্পর্কের কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের কারণে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে, এমনটি বলার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তাঁদের হাতে নেই। দেশে আবার সংক্রমণ বাড়ছে, তার মূল কারণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষের অনীহা আছে। দুই মাস সাধারণ ছুটি থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানেন, বিশেষত মাস্ক না পরেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে না। পাশাপাশি কার্যকর অন্য উদ্যোগও নিতে হবে।
চীনে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের এক বছর পার হতে চললেও এখনো ভাইরাসটি সম্পর্কে অনেক তথ্য অজানা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ভাইরাস আছে মৌসুমি, বিশেষ আবহাওয়া ও মৌসুমে এগুলোর সংক্রমণ দেখা যায়। যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা শীতকালে হয়। বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণও দেখা যায় শীতে। তবে করোনাভাইরাস মৌসুমি কোনো ভাইরাস কি না, শীতে সংক্রমণ বাড়বে কি না—এসব নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে আরও সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত শীত ও গ্রীষ্ম সব মৌসুমেই করোনার সংক্রমণ ছড়াতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের কারণে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে, এমনটি বলার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তাঁদের হাতে নেই।
করোনার সঙ্গে মৌসুমের সম্পর্ক কতটা
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক করি ম্যারো ও মার্ক আরবান করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। গত অক্টোবরে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব জায়গায় অতিবেগুনি রশ্মি তুলনামূলক কম, সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে।
এই দুই গবেষকের অনুমান, সংক্রমণ প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গ্রীষ্মে করোনার সংক্রমণ সাময়িকভাবে কমবে। কিন্তু শরতে তা আবার বাড়তে শুরু করবে। আর শীতে গিয়ে সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছাবে। অবশ্য তাঁরা বলেছেন, এই পূর্বানুমান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। আবহাওয়ার বাইরে আরও বেশ কিছু উপাদান সংক্রমণকে প্রভাবিত করে।
যদি মার্কিন দুই গবেষকের পূর্বানুমান ঠিক হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে সংক্রমণ আরও বাড়বে। কিন্তু দেশের বিশেষজ্ঞরা এখন পর্যন্ত করোনার সঙ্গে শীতের কার্যকর কোনো সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছেন না।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ক্রমেই মহামারি আকারে সংক্রমণ বিশ্বের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। ওই সময় শীত শেষ হয়ে যায়। দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শুরুর দিকে সংক্রমণ ছিল ধীর। গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
গত জুন, জুলাই মাসে গিয়ে করোনা পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হতে থাকে। এখন পর্যন্ত ওই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে। সময়টা ছিল গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল। আগস্টে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত নভেম্বর থেকে নতুন রোগী শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ সময় শীতও পড়তে শুরু করে।
এখন যে সংক্রমণ বাড়ছে, তার সঙ্গে শীতের সম্পর্ক আছে? কেন সংক্রমণ বাড়ছে? উত্তরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক তাহমিনা শিরিন প্রথম আলোকে বললেন, দেশে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকার মূল কারণ স্বাস্থ্যবিধি না মানা। সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে, সবকিছু প্রায় স্বাভাবিক। মানুষের ভেতর থেকে ভয় চলে গেছে। বাইরে বের হলে অনেকেই মাস্ক পরছেন না, জনসমাগম বাড়ছে। এসব কারণে সংক্রমণও আবার বাড়ছে।
শীতে করোনার বাড়তি ঝুঁকি প্রসঙ্গে তাহমিনা শিরিন বলেন, শীতে আবদ্ধ পরিবেশে মানুষ বেশি থাকে। যেমন সকালে বা রাতে ঠান্ডার জন্য গণপরিবহনের জানালা বন্ধ থাকে। এটা বাড়তি ঝুঁকির একটি কারণ হতে পারে।
শীতে আবদ্ধ পরিবেশে মানুষ বেশি থাকে। যেমন সকালে বা রাতে ঠান্ডার জন্য গণপরিবহনের জানালা বন্ধ থাকে। এটা বাড়তি ঝুঁকির একটি কারণ হতে পারে।তাহমিনা শিরিন, পরিচালক, আইইডিসিআর
ঢাকার সংক্রমণে আবহাওয়ার প্রভাব কতটা
শুরু থেকে দেশের মধ্যে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি রাজধানী ঢাকায়। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক রাজধানীর বাসিন্দা। রাজধানীতে দৈনিক সংক্রমণ বাড়া-কমার সঙ্গে আবহাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, চীন ও সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক। তাঁরা আর্দ্রতা, বায়ুমান, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বাতাসের গতিবেগ এবং সর্বনিম্ন, সর্বোচ্চ, গড় তাপমাত্রা—আবহাওয়ার এই সাতটি উপাদানের সঙ্গে ঢাকায় করোনার সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন। গত ৯ অক্টোবর তাঁদের গবেষণাটি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি ডিজিটাল পাবলিশিং ইনস্টিটিউটে (এমডিপিআই) প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষক দল গত ১ থেকে ৩১ মের প্রতিদিনের করোনার সংক্রমণ ও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তাতে তাঁরা দিনের সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রার সঙ্গে নতুন রোগী বাড়া-কমার একটি তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক পেয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এর কারণ হতে পারে দিনের সর্বনিম্ন বা গড় তাপমাত্রায় ভাইরাসটি অপেক্ষাকৃত বেশি সময় টিকে থাকতে পারে। গবেষণাকালে তাপমাত্রা প্রতি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার ক্ষেত্রে সংক্রমণ কমতে দেখা গেছে।
গবেষকদের একজন অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের সাতটি সূচকের মধ্যে মাত্র দুটি সূচকের (নির্দিষ্ট দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও গড় তাপমাত্রা) সঙ্গে কোভিড-১৯-এ নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। আর বায়ুমানের সূচকের সঙ্গে ঢাকার মোট কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যার নেতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে।
অধ্যাপক আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা শহরে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে আবহাওয়ার প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণে মানুষের চলন, প্রতিরোধক্ষমতা, স্বাস্থ্যবিধি ও নৈকট্য, জমায়েতের আকার, পরীক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনাসহ অনেকগুলো পরিবর্তনশীল বিষয় প্রভাবিত করে। তাঁদের গবেষণার আওতায় সেগুলো ছিল না কিংবা বিবেচনা করা হয়নি। কোভিড-১৯-এর গতিশীলতার একটি সম্পূর্ণ চিত্র পেতে এই পরিবর্তনশীল সম্পর্কগুলো নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
ঢাকা শহরে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে আবহাওয়ার প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, গবেষক
পশ্চিমের অভিজ্ঞতা কী বলে
এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আক্রান্তের শীর্ষ দশে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত ছাড়া অন্য দেশগুলো দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের। চীনের পর ইউরোপে করোনার প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছিল। তিন থেকে চার মাসের মাথায় ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ বেশি দিন থাকেনি। আড়াই থেকে তিন মাস পর ইউরোপজুড়ে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী বেড়েছে, এমন দশটি দেশের ছয়টিই ইউরোপের। ইউরোপে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আগে থেকে সেখানেও শীতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ইউরোপে এখন শীতকাল চলছে।
তবে ইউরোপের আবহাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আবহাওয়ার বিস্তর ফারাক। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সাতজন গবেষক বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণে আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। তাঁরা ৮ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে দৈনিক নতুন আক্রান্তের সংখ্যা, দৈনিক সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা, বাতাসের বেগ, আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও পরম আর্দ্রতার তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেছেন।
আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের সঙ্গে আবহাওয়ার উপাদানগুলোর মধ্যে একক কোনো উপাদানের প্রভাব তাঁরা পাননি। যখন সব কটি সূচক একসঙ্গে বাড়ে বা কমে, যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, বাতাসের গতিবেগ ইত্যাদি, তখন সংক্রমণে তার প্রভাব থাকে। তাঁরা মনে করছেন, শীতের সঙ্গে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।
শীতের সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়া-কমার সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত নয়আবু জামিল ফয়সাল, জনস্বাস্থ্যবিদ
কেন এখন সংক্রমণ বাড়ছে
শীতের সঙ্গে সম্পর্ক থাক বা না থাক, মাসখানেক ধরে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। বেশ কিছুদিন ধরে আবার প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সপ্তাহ দুই ধরে দৈনিক মৃত্যুর গড়ও আবার ৩০-এর ওপরে উঠে গেছে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছে।
গত ১৯ থেকে ২৫ নভেম্বর—এই এক সপ্তাহের সংক্রমণচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময় নতুন রোগী শনাক্তের হার সবচেয়ে বেশি রংপুর বিভাগে। ওই সপ্তাহে এই বিভাগের আটটি জেলার মধ্যে পাঁচটিতেই পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৭ শতাংশের বেশি ছিল। একই সময় সারা দেশে রোগী শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
উত্তরাঞ্চলে শীত বেশ অনুভূত হচ্ছে। তবে রংপুরের বাইরে রাজশাহী বিভাগে রোগী শনাক্তের হার খুব একটা বেশি দেখা যায়নি। রংপুর অঞ্চলে রোগী শনাক্তের হার বেশি হওয়ার সঙ্গে শীতের সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো গবেষণা হয়নি।
তবে শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায় বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এ সময় দেশে শ্বাসতন্ত্র ও ফুসফুসের রোগও বেড়ে যায়। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জেনেভার তিন শিক্ষকের এক গবেষণা বলছে, বসন্তে ইউরোপে করোনার প্রকোপ ও মৃত্যু বেশি হওয়ার সঙ্গে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার সম্পর্ক থাকতে পারে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বড় কয়েকটি শহরে বায়ুদূষণ সব সময় বেশি। ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি ২০১৯’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশের বাতাসে মারাত্মক ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতি রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রকাশিত একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিবেদন দুটি যৌথ উদ্যোগে প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন ও দ্য হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট।
জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বললেন, শীতের সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়া-কমার সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত নয়। তবে শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ বেশি হয়। নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বর বেশি হয়। হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যায়। এগুলো বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি বলেন, সবচেয়ে জরুরি হলো ট্রান্সমিশন (সংক্রমণ) বন্ধ করা। এরপরের ধাপ হলো ভাইরাস নির্মূল। অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ড সে পর্যায়ে যেতে পেরেছে। বাংলাদেশে এখনো সংক্রমণ বন্ধ করা যায়নি। এ জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।