অন্য নামে ঘনচিনি আমদানি?

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঘনচিনি আমদানি করা নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ঘনচিনি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, অন্য পণ্যের নামে ঘনচিনি আমদানি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেখতে একই রকম হওয়ায় সাইট্রিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম সাইট্রেটের নামে ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) আমদানি করা হতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব পণ্যের প্রতিটি চালান গবেষণাগারে পরীক্ষা করে খালাসের ছাড়পত্র দিচ্ছে।
কাস্টম সূত্র জানায়, দেশে সাইট্রিক অ্যাসিডের আমদানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সাইট্রিক অ্যাসিড আমদানি হয় ২ হাজার ৪৭২ টন। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয় ৪ হাজার ৫৫ টন।
সূত্র জানায়, বেশি মুনাফার জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আইসক্রিম, জুস ও মিষ্টিজাতীয় পণ্য তৈরিতে ঘনচিনি ব্যবহার করেন। এক কেজি ঘনচিনি ৪০ থেকে ৫০ কেজি সাধারণ চিনির সমান কাজ করে। অর্থাৎ প্রতি কেজি ঘনচিনি ব্যবহার করলে অন্তত দুই হাজার টাকা বেশি মুনাফার সুযোগ থাকে।
ঘনচিনি দেশে তৈরি হয় না। পণ্যটি আমদানিও নিষিদ্ধ। তারপরও চট্টগ্রামের জেল রোডের অনেক দোকানে বিক্রি হচ্ছে ঘনচিনি। যমুনা পারফিউমারি নামের একটি দোকানের বিক্রেতা একটি প্যাকেট দেখিয়ে জানান, ওই ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি ঘন চিনির দাম ২২০ টাকা। প্যাকেটের গায়ে চীনা ভাষায় লেখা।
ঘন চিনি বিক্রেতারা জানান, আইসক্রিম ও জুস তৈরির জন্য কিছু ব্যক্তি ঘন চিনি কেনেন।
দেশের বাজারে রেইনবো ব্র্যান্ডের ঘন চিনির প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে। হংকংয়ের রেইনবো রিচ ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের ওয়েবসাইটে বলা হয়, সাধারণ চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি এই ঘন চিনি।
ভিন্ন নামে ঘন চিনি আমদানির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিনিয়োগ বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. মাহবুব কবীর কাস্টমস কমিশনারের কাছে চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সাইট্রিক অ্যাসিড ও সোডিয়াম সাইট্রেটের ঘোষণা দিয়ে কিছু ব্যবসায়ী ঘন চিনি আনছে। এ কারণে এই দুটি পণ্যের চালান শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে ছাড় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান তিনি।
জানতে চাইলে মো. মাহবুব কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘন চিনি কোনো না কোনো পণ্যের আড়ালে দেশে ঢুকছে। এ জন্য রাজস্ব বোর্ডসহ কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আমদানি বন্ধ হলে ঘন চিনি বিপণনও বন্ধ হবে। ঘন চিনির মতো দেখতে তিনটি পণ্য আমদানির সময় কায়িক পরীক্ষা হলে নিষিদ্ধ পণ্যটির আমদানি বন্ধ হবে।’
কাস্টম সূত্র জানায়, ওই চিঠির পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাইট্রিক অ্যাসিডের প্রতিটি চালান পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শুরু করে। তবে গত রোববার পর্যন্ত কোনো চালানে ঘন চিনি পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আবদুল হান্নান বলেন, সাইট্রিক অ্যাসিডের দুটি নমুনা কাস্টমসের গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ঘন চিনি পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, ঘন চিনির মতো দেখতে যেসব পণ্য রয়েছে, সেগুলো কায়িক পরীক্ষা ও কাস্টমস গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হবে।