
লিকলিকে লতায় সবুজ পাতা। উপরিভাগের ফুল উপড়ানো। এ জন্য সবুজ পাতার জমিন রক্তলাল। সেখানে একটি মুখাবয়ব। এই মুখ নিষ্পাপ এক শিশুর। শেখ সামিউল আলম রাজনের (১৩)। গত বছরের ৮ জুলাই সিলেট নগরের কুমারগাঁও বাসস্টেশনের কাছে তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত একটি স্মৃতিস্তম্ভের ওই চিত্রে রাজনকে ‘ফুল’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। দেশে-বিদেশে আলোচিত এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এ রকম ভাবনা-সংবলিত স্মৃতিস্তম্ভের খসড়া তৈরি করেছিলেন সিলেটের তরুণ চিত্রশিল্পী অরূপ বাউল। স্থানীয় সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী রাজন হত্যাকাণ্ডের পর তার বাড়িতে গিয়ে ‘শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ স্তম্ভ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সাংসদের এ ঘোষণা অনুযায়ী স্তম্ভ স্থাপনের প্রাথমিক স্থান রাজন হত্যার ঘটনাস্থল সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাজককে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু রাজন হত্যাকাণ্ডের এক বছর পরও নির্মিত হয়নি রাজনের স্মরণে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ স্তম্ভ।
রাজনের বাড়ি সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানা এলাকার বাদেয়ালি গ্রামে। তার বাবা শেখ আজিজুর রহমান পেশায় মাইক্রোবাসচালক। টানাপোড়েনের সংসারে রাজন সবজি বিক্রি করে সহায়তা করত। পরিবারে মা-বাবাসহ তার ছোট এক ভাই রয়েছে। সবজি বিক্রির সময় ৮ জুলাই ভোরে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে রাজনকে ভ্যানগাড়ি চুরির মিথ্যা অভিযোগে আটক করে নির্যাতন করার সময় নির্যাতনকারীরাই একটি ভিডিওচিত্র ধারণ করেছিল। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর স্থানীয় সূত্রে ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্র প্রথম আলোর সিলেট কার্যালয়ে পৌঁছালে ১২ জুলাই এ নিয়ে প্রথম আলোয় ‘নির্মম, পৈশাচিক!’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়। পরে ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে দেশে-বিদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচারের দাবি উঠলে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতে চার মাসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। ৮ জুলাই রাজন হত্যার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনকে সামনে রেখে সম্প্রতি সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনের বাড়িতে একাধিকবার যাওয়ার সুবাদে এলাকাবাসীর দাবি ছিল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লাখ টাকার সরকারি অনুদান ঘোষণা দিই। অনুদানের টাকা ছাড় দেওয়া হয় সিলেট জেলা পরিষদে। সম্প্রতি জেলা পরিষদে খোঁজ নিতে গিয়ে আমি অবাক হয়েছি যে, অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ জেলা পরিষদ নেয়নি।’
সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আহাদ বলেন, ‘আমি মাস খানেক হয় এখানে এসেছি। সাংসদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঠিক কী কারণে এক বছরেও স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়িত হয়নি,Ñএ বিষয়ে অবহিত নই। যেহেতু টাকা আছে, তাই এটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেব।’