
কড়কড়ে সব নোট। বান্ডিলে থাকা প্রতিটি নোটই ভারতীয় মুদ্রা রুপি। রুপির মূল্যমান টাকার চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এখানে উল্টো চিত্র। নামমাত্র মূল্যে হাতে চলে আসছে বিপুল অঙ্কের রুপি। মাত্র সাত-আট হাজার টাকা দিলেই পাওয়া যায় এক লাখ রুপি। রুপির এসব নোট আবার ভারতে নয়, বাংলাদেশেই তৈরি।
এর কারিগর মো. দরুদুজ্জামান বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা তাঁর। এ অভিজ্ঞতায় নিখুঁত নোট তৈরি করেন তিনি। তবে মো. দরুদুজ্জামানের তৈরি সব নোটই জাল।
এসব জাল নোট তৈরি করে ভারতে পাচার করতেন মো. দরুদুজ্জামান বিশ্বাস। ১২ লাখ ২৮ হাজার জাল রুপি ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম ল্যাপটপ, প্রিন্টার মেশিন, লেমিনেটিং মেশিন, হ্যালোজেন লাইট, স্ক্যান করার প্রিন্টার ফ্রেম, সাদা কাগজ, বিভিন্ন ধরনের কার্টিজ, মোবাইল সেটসহ দরুদুজ্জামান ও মো. তরিকুল ইসলাম নামে তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে গত সোমবার সন্ধ্যায় ডিবির উত্তর বিভাগের একটি দল দরুদুজ্জামানকে ভারতীয় দুই লাখ জাল রুপিসহ গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে রাজশাহী জেলার শাহ মখদুম এলাকার একটি বাসা থেকে ১০ লাখ জাল রুপিসহ তরিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বুধবার দুপুরে মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি) দেবদাস ভট্টাচার্য।
দরুদুজ্জামানকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামি উল্লেখ করে এডিসি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি জাল টাকা ও ভারতীয় জাল রুপি তৈরি করছেন। একটি চক্রের মাধ্যমে জাল রুপি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি। চক্রটির মধ্যে জাল রুপি তৈরির ‘গুরু’ হিসেবে দরুদুজ্জামানের পরিচিতি রয়েছে। এক লাখ জাল রুপি সাত থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি করে এই চক্র।
তিনি আরও জানান, দরুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে আদাবর থানায় দরুদুজ্জামানসহ তাঁর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও জাল রুপি তৈরি শুরু করেন তিনি।