নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে এক তরুণকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণের নাম শেখ জাহিদ (১৯)। তিনি কোরআনে হাফেজ ছিলেন। তিনি বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবেও কাজও করতেন। এ ঘটনায় তাঁর বন্ধু ওমর ফারুকও আহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বলেন, কয়েক দিন আগে ফুটবল খেলা নিয়ে রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকার অন্য কিশোর-তরুণদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। দু-তিন দিন ধরে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শেখ জাহিদ ও ওমর ফারুককে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। পরে গুরুতর আহত জাহিদকে রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাহিদের মামা মো. সোহাগ প্রথম আলোকে বলেন, ফুটবল খেলা নিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে একই এলাকার অন্য কিশোর-তরুণেরা বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল। তবে তাঁর ভাগনে কোনো পক্ষে ছিল না। শুক্রবার রাতে তাঁর ভাগনে দুই সহপাঠীর সঙ্গে ঘুরতে বাড়ির পেছনের রাস্তায় যায়। এ সময় খেলা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়া কিশোরেরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ফুটবল খেলা ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা শেখ জাহিদ নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও একজন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় গতকাল রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহত জাহিদের লাশ নোয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।