বস্তায় উৎপাদন ও মেয়াদের নকল সিল

চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৪০০ বস্তা গুঁড়া দুধ জব্দ

চট্টগ্রাম নগরের মাঝিরঘাট এলাকার এই গুদামে গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। অভিযানে উৎ​পাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের নকল সিল মারা ৪ হাজার ৪০০ বস্তা গুঁড়া দুধ জব্দ করা হয়। ছবিটি বেলা ৩টায় তোলা l প্রথম আলো
চট্টগ্রাম নগরের মাঝিরঘাট এলাকার এই গুদামে গতকাল ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। অভিযানে উৎ​পাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের নকল সিল মারা ৪ হাজার ৪০০ বস্তা গুঁড়া দুধ জব্দ করা হয়। ছবিটি বেলা ৩টায় তোলা l প্রথম আলো

চট্টগ্রাম নগরের মাঝিরঘাট এলাকার একটি গুদাম থেকে উৎপাদন ও মেয়াদের নকল সিল মারা ৪ হাজার ৪০০ বস্তা গুঁড়া দুধ উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার বিকেলে গুদামটিতে অভিযান চালান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত শুক্রবার রাতে গুঁড়া দুধের প্রতিটি বস্তায় নকল সিল মারা হয়। প্রতি বস্তায় ২৫ কেজি করে গুঁড়া দুধ রয়েছে। জব্দ করা না হলে দু-এক দিনের মধ্যে গুঁড়া দুধের বস্তাগুলো বাজারজাত করা হতো বলে প্রথম আলোকে জানান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান এলাহী। তিনি এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক আফতাব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল বিকেলে মাঝিরঘাট এলাকার সিবু মিয়ার ভবনের নিচতলার ওই গুদামে অভিযান পরিচালনার সময় দেখা যায়, গুঁড়া দুধের বস্তায় যে নকল সিল মারা হয়েছে তাতে উৎপাদনকারী দেশের নাম লেখা রয়েছে ইউক্রেন। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে নুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং কোম্পানির নাম লেখা আছে। কারখানার ঠিকানা ফৌজদারহাট ভারী শিল্প এলাকা। নকল সিলে উৎপাদনের তারিখ জুলাই ২০১৬ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২০১৮ সালের জুলাই।
জব্দ করা গুঁড়া দুধের মেয়াদ রয়েছে কি না, জানতে চাইলে ফোরকান এলাহী প্রথম আলোকে বলেন, গুঁড়া দুধের বস্তায় মেয়াদ ও উৎপাদনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বস্তায় গুঁড়া দুধের উপাদানের তথ্যও ছিল না। শুক্রবার রাতে আমদানিকারকের লোকজন বস্তায় উৎপাদন ও মেয়াদের নকল সিল মারেন।
রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. নাজিমুদ্দীন জিজ্ঞাসাবাদে গুঁড়া দুধে নকল সিল মারার কথা স্বীকার করেছেন। এ অপরাধের জন্য তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তাঁকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও তিন মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়।