চাকরি হারিয়েও রেহাই নেই!

ফাস্ট অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড নামের রাজশাহীর একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি নেন গাইবান্ধার পাঁচ যুবক। যোগদানের সময় ফাঁকা চেকে সই নেওয়া হয়। তারপর অনুমোদনহীন গরু মোটাতাজাকরণের ওষুধ তৈরি করায় কোম্পানিটি সিলগালা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। মালিকও কারাভোগ করেন, জরিমানা দেন। চাকরি হারান ওই পাঁচ যুবক।

কিন্তু চাকরি হারিয়েও তাঁদের রেহাই নেই। চেকে ইচ্ছেমতো অঙ্ক বসিয়ে টাকা আদায়ে তাঁদের লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

পাঁচ যুবকের অভিযোগ, ফাস্ট অ্যাগ্রোভেট লিমিটেডের মালিক সেলিম মিয়া একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাঁর বাড়ি জামালপুর জেলায়। ওই কোম্পানিতে গরু মোটাতাজা করার ওষুধ তৈরি হতো। ২০০৬ সালে তিনি রাজশাহী মহানগরের বালিয়াপুকুর এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে নিজেই গরু মোটাতাজাকরণের অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরি শুরু করেন। কোম্পানির নাম দেন ফাস্ট অ্যাগ্রোভেট লিমিটেড। রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার, এরিয়া ম্যানেজার, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, বিক্রয় প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পদে শতাধিক লোক নিয়োগ দেন। এর মধ্যে বিক্রয় প্রতিনিধি পদে লোক নিয়োগের সময় প্রত্যেকের কাছে সই করা ফাঁকা চেক নেওয়া হয়।

অন্যত্র চাকরি পেতে ঝামেলা হতে পারে—এই আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের এক যুবক বলেন, ‘বেকারত্ব ঘোচাতে ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর ওই ওষুধ কোম্পানিতে যোগ দিই। সই করা একটি ফাঁকা চেক দিই। পরে জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ নকল করা এবং অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করার দায়ে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর সেলিম মিয়ার তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘কোম্পানি আমার কাছে টাকা পায় না। তারপরও তিন লাখ টাকা দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কোম্পানি বন্ধ হওয়ার পর আমি ১৪ মাস ধরে বেকার রয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা গ্রামের আরেক যুবক বলেন, ‘২০১৫ সালে ওই কোম্পানিতে চাকরি নিই। যোগদানের সময় ফাঁকা চেকে সই নেওয়া হয়। দুই বছর চাকরি করি। ম্যাজিস্ট্রেট ওই কোম্পানির কারখানা সিলগালা করায় চাকরি হারাই। কিন্তু চাকরি হারিয়েও রেহাই পাচ্ছি না। সেই ফাঁকা চেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার অঙ্ক বসিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে কোম্পানি। তারা মামলা করার হুমকি দিচ্ছে।’ কোম্পানির কারখানা সিলগালা করায় চাকরি হারান সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের আরেক যুবক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ১৫ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে।’

তবে গতকাল মঙ্গলবার সেলিম মিয়া মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই সব বিক্রয় প্রতিনিধির কাছে কোম্পানির টাকা পাওনা ছিল। পাওনার বিষয়টি সমাধানের জন্য লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। কেউ আলোচনায় বসলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে না। ফাঁকা চেকে সই নেওয়া কোম্পানির নিয়ম। অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান চেক নেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে আমার কারাদণ্ড হয়। কিন্তু কোম্পানির বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে জামিন পেয়েছি। বর্তমানে সরকারের অনুমোদন নিয়ে কোম্পানি চলছে।’