
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার তিনটি হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট ‘জিলানী বাহিনীর’ প্রধান আবদুল কাদের জিলানীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যমে শাখার পরিচালক খন্দকার আল মইন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ত্রিশালের জামতলী গ্রামে মামলা নিয়ে পূব৴শত্রুতার জেরে কয়েক সন্ত্রাসী আবুল কালাম (৫৮) ও তাঁর দুই ভাতিজাকে তাঁদের বাড়ির সামনে কুপিয়ে আহত করে। পরে আবুল কালাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় আবুল কালামের ভাতিজা বাদী হয়ে ত্রিশাল থানা মামলা করেন। হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে র্যাব-১৪–এর একটি দল গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি আবদুল কাদের জিলানী, মো. লাল মিয়া ও মো. রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। আবদুল কাদের জিলানীর দেওয়া তথ্যে র্যাব তাঁর বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করে। এর ভেতর থেকে দুটি চাপাতি, একটি লোহার রড, একটি বড় দা উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দেন আসামিরা।
র্যাব জানায়, নিহত আবুল কালামের ভাতিজা মো. সোহাগ ছিলেন রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার সাক্ষী। সেই মামলায় সোহাগ সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া জিলানী ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মালধোর ও বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেন। এর জেরে ঘটনার দিন সোহাগ বাড়িতে ফেরার পথে জিলানী ও তাঁর সহযোগীরা হামলা চালান। সোহাগের চিৎকারে তাঁর চাচা আবুল কালাম ও অন্যরা এগিয়ে এলে জিলানী, লাল মিয়া, রাকিবুল ইসলামসহ ৯ জন তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের হামলায় প্রথমে আহত হন আবুল কালাম। পরে হাসপাতালে মারা যান।
র্যাব জানায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিন মাস্টার ও রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলা থেকে বাঁচার জন্য জিলানী ও তাঁর সহযোগীরা আবুল কালামকেও হত্যা করেন। এ নিয়ে মোট তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটায় জিলানী বাহিনী। তারা বিভিন্ন সময় জালিয়াতির মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের ভূমি দখল করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে অতিরিক্ত মুনাফায় বিক্রি করত। তাদের এ কাজের বিরোধিতা করায় ২০১৮ সালের ৪ জুলাই জিলানী বাহিনী মতিন মাস্টারকে হত্যা করে তাঁর গলাকাটা লাশ পুকুরে ফেলে রাখে। এ হত্যা মামলায় জিলানীর ভাই তোফাজ্জল হোসেনসহ আটজনের নামে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দপ্তরি রফিকুল ইসলামকে হত্যা করে জিলানী বাহিনী। এতে আবদুল কাদের জিলানীসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়।
র্যাব জানায়, আবদুল কাদের জিলানী ভূমি দখলসহ নানা অপকর্মের জন্য ২০ থেকে ২৫ জনের একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এলাকায়।