
ঢাকা জেলার ধামরাই থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি নেওয়ার জন্য তিন প্রার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই প্রার্থীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য এবার (মার্চ, ২০১৮ ব্যাচ) ঢাকা জেলা থেকে ৮৩৬ জন প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিল ২৫০ জনের।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, এবার ধামরাই থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য আবেদন করেন ৩৩ জন। এর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত হন। চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাইয়ে তাঁরা ধরা পড়েন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নির্বাচিত ধামরাইয়ের বাটুলিয়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আবদুর রাজ্জাকের আবেদনের সঙ্গে বাবার নামে মুক্তিযোদ্ধার যে সনদের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, সেটি আসলে মাদারীপুরের শিবচর থানার ক্রোকচর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়ার। তাঁর বাবার নাম জৈয়নুদ্দিন তালুকদার। আর প্রার্থী রাজ্জাকের বাবা তোতা মিয়ার বাবার নাম হাসেন আলী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ধামরাইয়ের কালামপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের আবেদনের সঙ্গে বাবার নামে মুক্তিযোদ্ধার যে সনদ দেওয়া হয়েছে, সেটি আসলে কুমিল্লার বরুড়া থানার বগাবাড়িয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মিয়ার। তাঁর বাবার নাম ছায়েদ আলী। মনির হোসেনের বাবা বাচ্চু মিয়ার বাবার নাম সাকিম উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, ধামরাইয়ের ললিতনগর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মনোয়ার হোসেনের আবেদনের সঙ্গে বাবার নামে যে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়া হয়েছে সেটি নোয়াখালী সদর থানার হাকিমপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের। তাঁর বাবার নাম আহম্মদ উল্লাহ। প্রার্থী মনোয়ার হোসেনের বাবা নুরুল ইসলামের বাবার নাম মকবুল হোসেন।
পুলিশ সুপার বলেন, আবেদনের সঙ্গে দেওয়া কাগজপত্র ও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করার সময় ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা ও জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা-১ দীপক চন্দ্র সাহার কাছে প্রথমে প্রার্থী আবদুর রাজ্জাকের জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পরে। এরপর আরও যাচাই-বাছাই করে মনির হোসেন ও মনোয়ার হোসেনের জালিয়াতির বিষয়টিও নিশ্চিত হন তাঁরা। যাচাই-বাছাইকালে জানা যায়, আবদুর রাজ্জাকের বাবা তোতা মিয়া, মনির হোসেনের বাবা বাচ্চু মিয়া ও মনোয়ার হোসেনের বাবা নুরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা নন।
পুলিশ জানায়, জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথমে প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক ও মনির হোসেনকে আটক করা হয়। এরপর তাঁদের দেওয়া
তথ্য অনুযায়ী জালিয়াত চক্রের সদস্য আয়নাল হোসেন, আবদুল আলীম ও উজ্জল হোসেনকে আটক করা হয়। আটক এই পাঁচজনসহ ছয়জনের নাম
উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে গতকাল ধামরাই থানায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।
শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, জালিয়াত চক্রের সদস্যরা প্রতিটি সনদের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আট লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।