পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে ভুট্টাখেতে নিয়ে শিশুকে হত্যা: পুলিশ

অপরাধ
প্রতীতী ছবি

মুঠোফোনে খেলতে না দেওয়া ও ঠাট্টা-বিদ্রূপের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় শিশু মহিবুল্লাহকে ভুট্টাখেতে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত শিশুর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত মহিবুল্লাহ সিংড়া উপজেলার গোটিয়া গ্রামের আবু ইছার ছেলে। তার বয়স ছয় বছর। নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিখোঁজ হয় সে। নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর গুরুদাসপুর উপজেলার সাবগাড়ি এলাকার একটি ভুট্টাখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত মুহিবুল্লাহর বাবা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানানোর জন্য শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি বলেন, সন্দেহমূলকভাবে মহিবুল্লাহর নানার প্রতিবেশী এক শিশুকে (১৩) শুক্রবার রাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি মহিবুল্লাহকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও মহিবুল্লাহর ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিশুটি জানায়, মহিবুল্লাহ তার মায়ের একটি ফোন কাছে রাখত। গেমস খেলার জন্য ফোনটি চাইলে সে দিত না এবং তাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার বিকেলে মহিবুল্লাহকে পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে ভুট্টাখেতে নিয়ে প্রথমে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে সে। তাতে ব্যর্থ হয়ে পকেটে থাকা আম কাটার চাকু দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আজ দুপুরে পুলিশের হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত শিশুটিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মহিবুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংড়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ বলেন, ছয় বছরের এক শিশুকে কেন হত্যা করা হলো, তা অনুমান করাও যাচ্ছিল না। পরে নিহত শিশুটির খেলার সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করলে অভিযুক্ত শিশুটি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

গতকাল শুক্রবার প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণে এই ঘটনায় ‘নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর ভুট্টাখেতে মিলল শিশুর বস্তাবন্দী লাশ’ শিরোনামে খবর ছাপা হয়েছিল।