ঝালকাঠির নলছিটির শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা গতকাল সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় শেণিকক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। তাঁরা প্রধান শিক্ষিক মাহমুদা বেগমকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ আন্দোলনের ফলে গতকাল বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
মাহমুদা বেগম তিন বছর ধরে শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের সঙ্গে আপা সব সময় খারাপ ভাষায় কথা বলেন।’ অভিভাবক নূরুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। বিনা কারণে শিশুদের বেতের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলায় অনেকে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনজন অভিভাবক জানান, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তাঁরা।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান হোসেন বলেন, স্থানীয় অভিভাবকেরা বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দিয়েছেন। সেখান থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আন্দোলন করছেন। বিষয়টি সমাধান করে তালা খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিষ্কার করান। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি শিক্ষার্থীদের দিয়ে দোকান-সওদা করান। তা ছাড়া, প্রধান শিক্ষিক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি বরিশাল সদরে থাকেন। বিদ্যালয় থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করাচ্ছে।’
নলছিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বাগ্বিতণ্ডার জেরে বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।