বখাটের উত্ত্যক্ত সইতে না পেরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় গতকাল সোমবার এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সোহাগ মিয়া (১৮) নামের এক বখাটে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন।
ওই ছাত্রীর পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। উপজেলার কান্দারপাড়া গ্রামের আলা উদ্দিনের বখাটে ছেলে সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন।
গতকাল সকালে ওই ছাত্রী প্রতিদিনের মতো নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে রওনা দেয়। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বখাটে সোহাগ তার পথ রোধ করে দাঁড়ান। পরে ওই বখাটে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সে প্রস্তাবে রাজি না হলে ওই বখাটে তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করেন। পরে বখাটের হাত থেকে ছুটে সে বাড়িতে চলে যায়।
ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বখাটে সোহাগের এসব আচরণের কথা জানায়। এ সময় সে তার মাকে এ–ও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বখাটে সোহাগ তাকে উত্ত্যক্ত করছেন।
পরে ওই ছাত্রীর মা পারিবারিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সবার অজান্তে সে বেলা ১১টায় তার পড়ার কক্ষে গলায় উড়না পেঁচিয়ে ধরনার সঙ্গে টাঙিয়ে আত্মহত্যা করে।
ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘বখাটে সোহাগ অনেক দিন ধরে আমার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিল। এ ব্যাপারে সোহাগের মা–বাবাকে বলেও কোনো কাজ হয়নি। আমার মেয়ে ওই অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
দিনমজুর ভ্যানচালক বাবা বলেন, ‘মেয়েডারে অনেক কষ্ট কইরা এই পর্যন্ত আনছি। ওই বখাটে আমার সব স্বপ্ন কাইড়া নিছে।’ ওই ছাত্রীর বান্ধবী বলে, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তার বান্ধবীকে বখাটে সোহাগ উত্ত্যক্ত করতেন। ওই ছাত্রীর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে তাঁর বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বখাটে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ ঘটনার পর থেকে ওই বখাটে ও তাঁর পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ওই বখাটের অপমান সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জোয়াহের হোসেন খান বলেন, অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।