
নীতিমালা লঙ্ঘন করে ময়মনসিংহের ভালুকায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রল। অনুমোদিত পেট্রলপাম্প ছাড়া পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির বিধান নেই। কিন্তু তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের পাশাপাশি জারিকেন ও বোতলে পেট্রলসহ দাহ্য পদার্থ বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এর ফলে যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ও দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। একই আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার পাঁচ রাস্তার মোড়, উপজেলার সিডস্টোর বাজার, নায়েবের বাজার, স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ওষুধের দোকান, রেস্তোরাঁ, মুদির দোকান, ক্রোকারিজের দোকান, ফলের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করার জন্য রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ক্রোকারিজের দোকানি বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করেছেন। এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের বিক্রিতে লাইসেন্সের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে কোনো গ্যাস কোম্পানির লোকজন তাঁকে কিছু বলেননি। তাঁর দোকানে দুটি গ্যাস কোম্পানির ১৬টি গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে।
পৌরসভার বাইরে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড, মেদুয়ারী ইউনিয়নের বাতসাতরা মোড়, নিঝুরী বাজার, বগাজান বাজার, উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী চৌরাস্তা মোড়, উথুরা বাজার প্রভৃতি এলাকায় মুদি ও রকমারি দোকানে পেট্রলের পাশাপাশি দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভালুকা থানা-পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা না করায় দিন দিন বেড়ে চলেছে এই ব্যবসা। কোমল পানীয়র পুরোনো বোতলে ভরে পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানের পেট্রলের ক্রেতাদের অনেক দোকানি চেনেন না বা জানেন না। এটি খুবই বিপজ্জনক। দুষ্কৃতকারীদের হাতে পেট্রল চলে যেতে পারে।
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা করলে অবশ্যই তাঁকে লাইসেন্স নিতে হবে। নীতিমালা মেনে ব্যবসা করতে হবে। সড়কের ধারে সাজিয়ে রেখে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা খুবই বিপজ্জনক। এ ছাড়া যত্রতত্র পেট্রল বা দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণত ছোট ব্যবসায়ীকে (১০টি) ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স দেয়। কিন্তু এর অধিক হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও মাসুদ কামাল জানান, দাহ্য পদার্থ বিক্রির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা আছে। যত্রতত্র বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।