প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না মো. বদিউল আলমের। তারপরও তিনি ২০ মাস আগে ওই পদে চাকরি নেন। সম্প্রতি ভুয়া সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়।
এ বিষয়ে ১৯ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিপিইও) কাছে অভিযোগ করেন নান্দাইলের নারায়ণপুর এলাকার হুমায়ুন কবীর ভূঞা।
বদিউল আলম ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর নান্দাইল পৌরসভার বালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। তাঁর বাড়ি নান্দাইল উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে।
জালিয়াতির বিষয়ে ২৩ আগস্ট মুঠোফোনে বদিউল বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দেখেই কর্তৃপক্ষ তাঁকে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করার আগে চিন্তাভাবনা করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে পরদিন তিনি পদত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনারকলি নাজনীন।
অভিযোগের অনুলিপি ও নানা সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির (পিইডিপি-৩) আওতায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (সেকশন ৩) তাদের ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২০ ডিসেম্বর। সহকারী শিক্ষক পদে পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং সিইনএড (সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন) যোগ্যতাসম্পন্ন। অথবা স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পাস। বদিউল আলম স্নাতক পাস না করলেও ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে স্নাতক পাসের জাল সনদ দিয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, বদিউল আলম ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে কিশোরগঞ্জ ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে বিবিএর ফাইন্যান্স বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ওই বিষয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর। চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় একই বছরের ১৫ নভেম্বর। বদিউল আলম সহকারী শিক্ষক পদের চাকরির আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বিবিএ কোর্সের যে ‘মার্কস সার্টিফিকেট’ জমা দিয়েছেন, তাতে পঞ্চম সেমিস্টারের সিজিপিএ ২.৬০ মার্কস উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ তিনি ওই বিষয়ে সিজিপিএ ২.৯৪ ও লেটার গ্রেড সি প্লাস পেয়ে বিবিএ পরীক্ষায় পাস করেছেন। কিন্তু টেব্যুলেশন শিটে পঞ্চম সেমিস্টারে সিজিপিএ ২.১০ ও লেটার গ্রেড ০.০০ উল্লেখ করে তাঁর নামের পাশে অকৃতকার্য লেখা রয়েছে।
অভিযোগকারী বলেন, বদিউল আলম স্নাতক পাস করেছেন ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর। তাই তিনি ওই সময় ওই পদে চাকরির আবেদন করার যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন না।
আনারকলি নাজনীন বলেন, অভিযোগের তদন্ত শুরু করার আগেই বদিউল আলম তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এখন তিনি কী করবেন তা বুঝতে পারছেন না। ভুয়া সনদের মাধ্যমে চাকরি নিয়ে ২০ মাস সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন ওই শিক্ষক। কীভাবে তাঁর কাছ থেকে সরকারি অর্থ আদায় করবেন, জানতে চাইলে আনারকলি নাজনীন বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।