নাকুগাঁও বন্দরে ট্রাক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার জের

মেয়রের কর্মীদের সঙ্গে বন্দর শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত ৭

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়রের কর্মী–সমর্থকদের সঙ্গে নাকুগাঁও বন্দরের শ্রমিকদের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দর চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন শ্রমিক সেলিম মিয়া (২৫), মো. রুহানি (২১) ও কাদির সিদ্দিক (৩৮) এবং মেয়রের সমর্থক মাহিম মিয়া (২০), মাফুজ আহম্মেদ (২৮), লিটন মিয়া (২০) ও কামরুজ্জামান (২৯)। আহত ব্যক্তিদের বারোমারি ইসলামিক মিশন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বেলা তিনটার দিকে মাহিম ও মাফুজকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ, বন্দরের ব্যবসায়ী ও কয়েকজন শ্রমিক জানান, গতকাল সকালে নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। এ সময় তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষকে ভারত থেকে আসা ট্রাক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এতে বন্দরের শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হন। মেয়রকে আনতে সদর থেকে ৫০টি মোটরসাইকেলে করে তাঁর লোকজন বন্দরে উপস্থিত হন। বেলা দেড়টার দিকে মেয়রের লোকজন বন্দরের সেলিম নামের এক শ্রমিককে মারধর করেন। এতে বন্দরের শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়রের লোকজনের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বেধে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত হয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘সকালে মেয়র ভারত থাইকা আসা ট্রাক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। দুপুরে মেয়রের লোকজন একজন শ্রমিককে মারধর করায় শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় সংঘর্ষে তিনজন শ্রমিকসহ সাত-আটজন আহত হন।’
মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে আমার গত বছরের ছয়টি এলসির মালামাল রয়েছে। কিন্তু তাঁরা আমাকে মালামাল দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেই ভারতে গিয়েছিলাম। গাড়ি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। তবে শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাথরের ঢিলে আমার চারজন কর্মী আহত হয়েছে।’
বন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেয়র ভারত থেকে আসা ট্রাক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। বেলা একটায় মেয়র ভারত থেকে ফিরে আসার পর তিনি গাড়ি চলাচলের নির্দেশ দেন।’
নালিতাবাড়ী ওসি মো. ফসিহুর রহমান বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। কোনো পক্ষই মামলা করবে না বলে জানিয়েছে।