চিংড়ি আনা হয়েছিল খুলনা থেকে। আনা হয়েছিল বাজারের সবচেয়ে ভালো মাংসটাই। স্কুলশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সামর্থ্যের সবটুকু খরচ করেছিলেন মেয়ের বিয়েতে। নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ৬০০ অতিথিকে। স্বামীর বাড়িতে মেয়ে ভালো আছে—এ রকমই সব সময় ভাবতেন দেলোয়ার। কিন্তু গত ৮ জুন রাতে হঠাৎ একটি ফোনে তাঁর সেই ভাবনা বদলে যায়। পরদিন ঢাকায় এসে দেলোয়ার পেলেন মেয়ের লাশ। এখন বিচারের জন্য ঘুরছেন এখানে-ওখানে।
দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয়েছে ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় বসে। পুলিশ, মানবাধিকার কমিশন আর সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তিনি তখন ক্লান্ত। ঝালকাঠির নলছিটির বিজি ইউনিয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি।
দেলোয়ার বলেন, ২০১০ সালে তাঁর এইচএসসি পড়ুয়া মেয়ে ইসরাত জাহানের বিয়ে দেন আলামিন হোসেনের সঙ্গে। আলামিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ভ্যাট শাখার সহকারী কর্মকর্তা। দেলোয়ার বলছিলেন, ‘আমার মাইয়াডা খুব সুন্দর আছিল। চারদিক থেকে নানা প্রস্তাব আইতে আছিল। আমি সরকারি অফিসার দেইখা রাজি হইলাম। কিন্তু হে যে আমার মাইয়ারে লাশ বানাইব, এইডা কে জানত?’
দেলোয়ারের সঙ্গে আসা স্থানীয় বাচ্চু মিয়া মাস্টার বলেন, মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজনেই প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করেন দেলোয়ার হোসেন। ওই খরচ ছাড়া আরও প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার আসবাবপত্র মেয়েকে কিনে দিয়েছিলেন তিনি। ফিলপস টিভি, হিটাচি ফ্রিজ, শোকেস, আলমারি, খাট সবই দেওয়া হয়েছিল। খালি সোফাটা বাকি ছিল। সেই সোফা কেনার জন্য কয়েক মাস ধরে ৪০ হাজার টাকা চাইছিলেন জামাতা আলামিন। কিন্তু জুন মাসে দেলোয়ার হোসেন মেয়েকে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে বলেছিলেন, বাকি টাকা পরে পাঠাবেন। এ নিয়েই আলামিন মেয়েকে নানা কটু কথা বলেন, নির্যাতন করেন।
বাচ্চু মিয়া বলেন, বিভিন্ন সময়ে টাকার জন্য ইসরাতকে মারধর করতেন আলামিন। সব শেষে গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইসরাতের শাশুড়ি শাহনাজ বেগম ফোন করে দেলোয়ার হোসেনকে বলেন তাঁর মেয়ে গুরুতর অসুস্থ। পরদিন সকালে ঢাকায় এসে দেলোয়ার বারডেম হাসপাতালে মেয়ের লাশ পান। এ বিষয়ে মতিঝিল থানায় ইসরাতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন দেলোয়ার হোসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রধান আসামি আলামিন হোসেন সরকারি চাকরি করেন। তাঁর ফোনগুলো বন্ধ, তিনি অফিসও করছেন না। তাঁর কল তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।