
রাজশাহীতে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আজ সোমবার রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। পুলিশের একজন উপকমিশনারকে এ অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ওই এএসআইয়ের নাম শরীফুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় কর্মরত। অভিযোগ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আবদুল হাকিম নামের এক ব্যক্তি। তাঁর ভাই সালাহউদ্দীন পুলিশের ছিনতাইয়ের শিকার হন বলে অভিযোগ।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার হরিপুর সাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সালাহউদ্দীন ২৪ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল রোববার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এরপর নগরের ডাবতলা এলাকায় তাঁর বোনের বাড়িতে যান। পরে বিকেলে তিনি তাঁর ভাবির সঙ্গে রিকশায় করে শহরে বের হন। বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে গেলেই রিকশার গতিরোধ করে একদল পুলিশ। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, রিকশা থামানোর পর ভয়ভীতি দেখিয়ে সালাহউদ্দীনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে থাকা একটি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর ও বিকাশের টাকা নেওয়া ওই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সালাহউদ্দীন নিশ্চিত হন, পুলিশের ওই দলটি রাজপাড়া থানার। সন্ধ্যায় থানায় গিয়ে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হন। সে সময় পুলিশ মীমাংসার জন্য ভয়ভীতি দেখালে তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এএসআই শরীফুল এখন ফোন করে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। আবদুল হাকিম অভিযোগে বলেছেন, তাঁর ভাই সালাহউদ্দীন হৃদরোগে আক্রান্ত। পুলিশের ওই ছিনতাইয়ের সময় তাঁর বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারত। তাই তিনি দোষীদের শাস্তি চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তবে অভিযুক্ত এএসআই শরীফুল ইসলাম বলেছেন, রিকশায় তাঁদের আচরণ ভালো ছিল না। এটা দেখে তাঁর পরিচিত কর্নেল নামের এক যুবক তাঁকে ফোন করে ডাকেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে ও ঢাকার বিক্রমপুরের মেয়ে এক রিকশায় যাচ্ছেন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের আটক করেছিল। তিনি গিয়ে ছেলেটাকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বিদায় করে দিয়েছেন। টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
অভিযোগের বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একজন উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে তিন দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।