গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণকাজে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য শৌচাগার (ওয়াশ ব্লক) নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সাদুল্যাপুর উপজেলার ঠিকাদার আবদুল খালেক ওই নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান। নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ঢালাইয়ের কাজে ১০ থেকে ১২ মিলিমিটার লোহার রড ব্যবহার করতে হবে। সেখানে রডের পরিবর্তে ঢালাইকাজে চিকন বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, শৌচাগারের ছাদ ভাঙার কাজ চলছে। দুপুর পর্যন্ত ছাদের অর্ধেক অংশ ভাঙা হয়েছে। এর পাশেই ভাঙচুর করা শৌচাগারের একটি জানালা ও একটি দরজার ওপরের অংশে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ বেরিয়ে আছে।
মেঘডুমুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঢালাইয়ের কাজ দিনে করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার চিকন বাঁশ ব্যবহারের জন্য রাতের অন্ধকারে ঢালাইয়ের কাজ করেন। রাতে কাজ করার কারণে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। তাঁরা ঘটনাটি রামচন্দ্রপুরের ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। পরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গত শুক্রবার শৌচাগারের ঢালাই করা একটি জানালা ও একটি দরজার ওপরের অংশ ভাঙা হলে চিকন বাঁশ পাওয়া যায়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন উত্তমমধ্যম দিলে ঠিকাদারের লোকজন ও মিস্ত্রিরা পালিয়ে যান।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্মাণমিস্ত্রিদের থাকার জন্য একটি শ্রেণিকক্ষ খুলে দেওয়া হয়। তাঁরা ছুটির দিনে ও রাতে কাজ করেন বেশি। সেই সুযোগে তাঁরা কক্ষের বেঞ্চ ভেঙে পুরোনো লোহার ফ্রেমও ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করেন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল বিকেল চারটায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদার আবদুল খালেক মেঘডুমুরসহ আটটি বিদ্যালয়ের কাজ পেয়েছেন। মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ ব্যবহার করায় তাঁর অন্য সাতটি বিদ্যালয়ের কাজই বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাইফুল ইসলাম বলেন, ছুটির দিনে কাজ করে নির্মাণমিস্ত্রিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, দরজা ও জানালার ওপরের অংশে চিকন বাঁশ পাওয়া গেছে। তবে আর কোথাও চিকন বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে কি না সে জন্য পুরো ছাদ ভেঙে দেখতে সুপারিশ করা হয়েছে।
ঠিকাদার আবদুল খালেক গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢালাইয়ের কাজে চিকন বাঁশ ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না। মূলত এলাকার কিছু লোক আমার কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁরা মিস্ত্রির সঙ্গে যোগসাজশ করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ওই ঘটনার পর থেকে মিস্ত্রিরা পলাতক রয়েছেন।’