সিলেট শহরের যুগলটিলায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) ভক্ত ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ লাঠিপেটা করে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে সাবেক নারী কাউন্সিলরসহ সাতজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জনকে আটক করে।
গতকাল শুক্রবার বেলা দেড়টার পর থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় ইসকন কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠকে বসে মহানগর পুলিশ। সেখানে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকারঅঙ্গীকার করলেআটক ২৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইসকন মন্দিরেগতকাল সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধর্মীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভাগীয় প্রতিযোগিতা চলছিল। মন্দিরের বিপরীত দিকে কাজলশাহ জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের কয়েকজন এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় একদল লোক মন্দিরের দিকে এলোপাতাড়ি ঢিল ছোড়ে। তখন মন্দিরে থাকা ইসকনভক্তরা ঢিল ছোড়ার কারণ জানতে এগিয়ে এলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সংঘর্ষের পরপরই কাজলশাহ জামে মসজিদের মাইকে মুসল্লিদের উদ্দেশে মসজিদে হামলা হওয়ার আশঙ্কার কথা ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা শুনে কাজলশাহ, ভাতালিয়া ও মধুশহীদ এলাকার কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে ইসকন পরিচালিত একটি বিপণিবিতান ও একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে ভাঙচুর চালান। শেষে তাঁরা মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় ইটের আঘাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জেবুন্নাহার শিরিনসহ তিনজন আহত হন।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইসকন মন্দিরের চারদিকে অবস্থান নেন। তখন এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁদের দুই দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় আহত হন চারজন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ জানান, পুলিশ লাঠিপেটা করে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনা সম্পর্কে কাজলশাহ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়কারী তিনজন মুসল্লি বলেন, জুমার নামাজ চলার সময়ও মন্দির থেকে গানবাজনার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এ নিয়ে অনেক মুসল্লি বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। তবে নামাজ শেষে মুসল্লিদের এ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে কারা হামলা করেছে, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।
ইসকন বাংলাদেশের সহসভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ নবদ্বীপ দ্বিজ গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী বলেন, ইসকনের ‘জাগ্রত ছাত্র সমাজ’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে সিলেট বিভাগের চার জেলার পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ধর্মীয় শাস্ত্রীয় সংগীত প্রতিযোগিতা চলছিল। প্রতিযোগিতা চলার একপর্যায়ে ঢিল ছোড়া দেখে তাঁরা এমন ঘটনার মুখে পড়েন।
সন্ধ্যায় এলাকাবাসী ও ইসকন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে মহানগর পুলিশ প্রশাসন। বৈঠকে রাজনৈতিক নেতারা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটেছে বলে উভয় পক্ষ সম্মত হলে ঘটনাস্থল থেকে আটক ২৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মহানগর পুলিশের পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি ঘিরে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এ বিষয়ে ইসকনভক্ত ও এলাকাবাসী একমত হন। তাঁরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সম্মত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, এলাকাবাসীকে নিয়েই তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।