ইয়াবা উদ্ধার

১৩ কোটি টাকার ইয়াবা বিজিবির হাতে

জব্দ ইয়াবা বড়ি। ফাইল ছবি
জব্দ ইয়াবা বড়ি। ফাইল ছবি

থানা–পুলিশকে না জানিয়ে উদ্ধার করা ১৩ কোটি টাকার ইয়াবা বড়ি ১০ দিন ধরে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বিজিবি। এ নিয়ে জনমনে নানা কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে কক্সবাজারের রামুর দুর্গম পাহাড় থেকে এই ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ইয়াবা উদ্ধারের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না করে কেন নিজেদের হেফাজতে রেখেছেন, প্রশ্ন করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ৪ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা বড়ি বিজিবির হেফাজতেই আছে। আগের মতো এই ইয়াবা বড়িগুলোও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।

থানা–পুলিশকে না জানিয়ে জব্দ করা আলামত এভাবে রাখা যায় কি না, জানতে চাইলে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উদ্ধারের পরপরই আমরা রামু থানায় জিডি করতে গিয়েছিলাম, নানা কারণে জিডি করা হয়নি। এখন ইয়াবা চালানটির ব্যাপারে অনুসন্ধান করছি। ইয়াবা পাচারের রুট, পাচারকারীদের নাম শনাক্তের কাজ চলছে।’

উদ্ধার করা এই ইয়াবা নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে বিজিবি। এতে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খামারের খড়ের ভেতর লুকানো অবস্থায় ৪ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বাজারমূল্য ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জব্দ ইয়াবা বড়িগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত গত ১০ দিনে এ নিয়ে কোনো থানায় বিজিবির পক্ষ থেকে জিডি করা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেও জমা হয়নি কোনো ইয়াবা।

জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সুমেন মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, বিজিবিকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বিপরীতে থানায় জিডি করে তার কপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা দিতে বলেছিলেন। কিন্তু এ পর্যন্ত জিডির কপি তাঁর দপ্তরে আসেনি। ওই কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত বিজিবি ইয়াবা জব্দ অথবা উদ্ধার করলে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় জিডি অথবা মামলা করে ইয়াবাগুলো নিজেদের (বিজিবি) হেফাজতে নেয়। এরপর মামলা অথবা জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করে।

রামু থানার ওসি আবুল মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, বিজিবি সদস্যরা সেদিন ৪ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের বিপরীতে থানায় জিডি করতে এসেছিলেন। কিন্তু আলামত (ইয়াবা) দেখাতে না পারায় জিডি লিপিবদ্ধ হয়নি। আলামত ছাড়া জিডি নেওয়া সম্ভব না।

এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের পরের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের হাতে সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা বড়ি ও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তালিকাভুক্ত ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। আত্মসমর্পণের আগের দিন রামুসহ তিনটি স্থান থেকে ৫ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান মালিকবিহীন ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনায় উপস্থিত বিজিবির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের সব জায়গায় ভালো কাজ করছেন না। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়েই ইয়াবা ঢুকছে। ইয়াবা ব্যবসায় কতিপয় সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ পাচ্ছি।’

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিজিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইয়াবা উদ্ধার করলেও বাহককে গ্রেপ্তার করতে পারে না।