২০ ঘণ্টায় ছাত্রলীগের তিনবার সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল বিকেল চারটায়। সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল বিকেল চারটায়।  সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি রামদা উদ্ধার করা হয়। গত বুধবার রাত ৯টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠে মারামারি করেছে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ।

পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়ানো দুটি পক্ষ হলো বিজয় এবং চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি)। এ দুটি পক্ষই শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এ নিয়ে গত এক বছরে অন্তত ১০ বার মারামারিতে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষ।

ঘটনার সূত্রপাত

গত বুধবার রাতে ক্যাম্পাসের সোহরাওয়ার্দী হলের পাশের একটি দোকানে বসা নিয়ে কাকন দে নামের বিজয় পক্ষের এক কর্মীকে মারধর করেন সিএফসির কর্মী শোয়াবুর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে বিজয় পক্ষের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে অবস্থান নেন। এরপর শোয়াবুর সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে গেলে তাঁকে মারধর করেন বিজয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এ সময় সিএফসি পক্ষের কর্মী এখলাছের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বিজয় পক্ষের কর্মীরা। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন।

এদিকে এ ঘটনার রেশ ধরে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় আবারও ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় দুটি পক্ষ। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ে দুপক্ষ দুই দফায় মারামারিতে জড়ায়। এ সময় দুই পক্ষের হাতেই দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। মারামারির সময় সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৭ কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয় বলে জানান কেন্দ্রের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আহতদের মধ্যে মো. ইমরান নামের একজনের হাতের তিন আঙুলে জখমের দাগ ছিল। তাই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। সিএফসি পক্ষের নেতা রেজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিজয়ের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কর্মীদের একা পেলেই মারধর করছিলেন। তাঁদের অনেকে ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহও করেন। তাই তাঁদের ক্যাম্পাস ছাড়া করা হয়েছে।’

বিজয় পক্ষের নেতা এইচ এম তারেকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু অছাত্র ও মাদকাসক্ত নেতা সিএফসি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের সরাসরি মদদে কর্মীরা ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার ঘটনা ঘটাচ্ছে।’

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাংগীর গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চারটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহসিন কলেজে মারামারি

খেলার মাঠে দুই কর্মীর মধ্যে ধাক্কাধাক্কির জের ধরে মারামারিতে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম নগরের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। এ সময় তাঁদের হাতে ধারালো অস্ত্রসহ লাঠিসোঁটা ছিল। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে দেয়। মারামারিতে জড়িয়ে পড়া দুটি পক্ষ সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলামের অনুসারী।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল কলেজের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (বহিরঙ্গন) চলছিল। এ সময় কথা-কাটাকাটির জের ধরে আ জ ম নাছিরের অনুসারী ইমাদ সিকদারের সঙ্গে নুরুল ইসলামের অনুসারী নয়ন হোসাইনের ধাক্কাধাক্কি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষই মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিযোগিতা। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে লাঠিপেটা করে সরিয়ে দিলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু নাসের সরকার প্রথম আলোকে বলেন, কথা-কাটাকাটি থেকে দুপক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে একটি রামদা পাওয়া গেছে।