ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত

আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন ৫ আসামি

রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

আজ শনিবার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

এদিন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান এজাহারভুক্ত আসামি নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া, শহীদ ও মিজানকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন। তবে আসামি মিজান ছাড়া অন্য পাঁচ আসামি জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। একই সঙ্গে মিজানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, আজ শনিবার জামালপুর সদর উপজেলার কাজীর আখ এলাকা থেকে সুমন মিয়াকে এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বরাইল এলাকা থেকে শহীদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। অন্য আসামিদের ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতে তোলা হয়।

এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার একই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। উচ্চস্বরে বাঁশি বাজানো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে নিরবের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে হাবিবুর রহমানের ভাগনে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। পরদিন সাদ্দামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয়ভাবে সালিসের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্তদের মধ্যে ক্ষোভ থেকে যায়।

এজাহারে বলা হয়, ১ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওত পেতে থাকা আসামিরা আদাবর ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার (বাদশাহ)–এর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে দুজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আবুল বাশারের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত আবুল বাশারের স্ত্রী মোছা. স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন।