ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

১৫ আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনার মামলায় ১৫ আসামি রিমান্ডে

১৫ আগস্টে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানায় করা মামলায় ১৫ আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলেন লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাকিব, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা, জিহাদ হাসান, আবু সাইম, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি ও রাজন মিয়া।

১৫ আগস্ট এই ১৫ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান। আদালত সেদিন আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন। সেই অনুযায়ী আজ কারাবন্দী আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে একই মামলায় ১৯ আগস্ট যুবলীগ নেত্রী মেহজাবীন আক্তার মালাসহ ১৫ জনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লকের ২৮ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে ৫২ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভাটারা থানার এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

পরদিন ১৪ আগস্ট আটক ৫২ আসামিকে কারাগারে এবং আইনের সংঘাতে আসা দুই শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর ১৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁরা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে একত্র হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতা–কর্মীরা সেখানে সমবেত হন। এ সময় তাঁরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।