
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন মামলার প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির ও মো. তাহসীন ইসলাম।
আজ শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলমের আদালতে তাহসীন ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে শাহ আমানত সাবিরের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এ ছাড়া রিমান্ড শেষে মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়োজিতকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁদেরও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের ব্যানারে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দীন প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত সাতজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ১২ জুলাই ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাত আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে প্রধান আসামি শাহ আমানত সাবির ও মো. হোসাইন তানিমকে আরও এক দফা তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার নথি ও রিমান্ড আবেদন থেকে জানা যায়, ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান ও মো. বায়োজিতকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে যশোর থেকে মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ জুলাই এই সাতজনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৬, ৭, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় ১৬ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় তাঁদের যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।