ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে হামলা-ভাঙচুর-লুটের মামলায় গ্রেপ্তার ৪ জন কারাগারে

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে ভেকু (খননযন্ত্র) নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ শুনানি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

ওই চার আসামি হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুণ অর রশিদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভেকু এনে মধ্যরাতে ভাঙচুর ও লুটপাট

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহ আলী থানা এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করেন। তাঁরা সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আবদুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে আটকে রাখেন। এরপর হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।

হামলাকারী ব্যক্তিরা প্রথমে প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমি পাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এরপর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমি পাকা ঘর ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়, যাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার লাখ টাকা।

তাণ্ডব চালিয়ে ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমি পাকা ঘর এবং সেখানকার আসবাব ও চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়; এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতি করা হয় আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার। সবশেষে আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরির পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।

ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, তিনটি স্টিলের আলমারি এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়ন হামলাকারী ব্যক্তিরা। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় রাড্ডা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন।

আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা অর্থের বিনিময়ে এ হামলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই এলাকার বাসিন্দা না হওয়ায় তাঁদের স্থায়ী নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার স্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।