
রাজধানীর হাতিরঝিলে কাঁচামাল ব্যবসায়ী এমাদুল হাওলাদার রাজু (৪৮) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি মো. বজলু মিয়া ওরফে বজুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি সাথী আক্তারের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসিম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
১০ হাজার টাকার বিরোধে হত্যা
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত এমাদুল হাওলাদার রাজু কারওয়ান বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। একই বাজারে ব্যবসা করতেন প্রধান আসামি বজলু মিয়াও। ১০ হাজার টাকা লেনদেন নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এর জেরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যবসার কথা বলে রাজুকে বড় মগবাজার এলাকার নিজ বাসায় ডেকে নেন বজলু। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে বজলু ও তাঁর স্ত্রী সাথী ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর পিঠের ডান পাশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মগবাজারের একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনা বানানোর চেষ্টা ও গ্রেপ্তার
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, রাজুকে ছুরিকাঘাত করার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আসামিরা। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাথী আক্তারের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সেখান থেকেই আটক করে।
এদিকে ঘটনার পর কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বজলু। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত বুধবার হাতিরঝিল থানায় ভুক্তভোগীর বড় বোন শাহানা বেগম বাদী হয়ে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।