শুনানি শেষে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছে সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে। ২০ জুলাই
শুনানি শেষে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছে সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে। ২০ জুলাই

প্রতারণার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদের জামিন

এক কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগে করা প্রতারণার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে অন্য মামলা থাকায় এখনই কারামুক্ত হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় ১০ দিনের জন্য সাহেদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের শর্তে আদালত মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে ১০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। তবে তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না এই জামিনে। ২০২০ সালের ১৩ জুলাই এ মামলা হয়। এত দিন এ মামলার বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। আজই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এ মামলায়। এর আগে জেলখানায় থাকার পরও বাদী এই মামলার বিষয়ে জানায়নি।’

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে বাদী মো. সাইফুল্লাহ মাসুদ তাঁর প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে সাহেদ করিমকে বিভিন্ন সময়ে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেন। শুরুতে কিছু অর্থ নগদে পরিশোধ করা হলেও পরে চেকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা হতো। একপর্যায়ে সাহেদ প্রাইম ব্যাংকের চারটি চেক দেন, যার মোট মূল্য এক কোটি টাকা। তবে চেকগুলো ব্যাংকে উপস্থাপন করলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো ফেরত আসে। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে পাওনা টাকা চাইলে সাহেদ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। ২০২০ সালের ২৬ জুন টাকা চাইতে গেলে তিনি অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ১৩ জুলাই ঢাকার আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করেন মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল্লাহ মাসুদ। এর আগে চলতি বছর গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা-পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে।