ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৫ জন রিমান্ডে

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ৫২ আসামির মধ্যে ১৫ জনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়া ৫৪ জনের মধ্যে ৫২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। আজ ১৫ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পর্যায়ক্রমে বাকি আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এই মামলার দুজন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তারা গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আছে।

আজ ১৫ আসামির পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে নেওয়া ১৫ জন হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা মোত্তালিব (৩৫), যুবলীগ নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা (২৭), যুবলীগ নেতা মো. রুবেল (৩২), জি কে মাসুদ (২৮), অন্তর মিয়া (১৯), মো. রমজান (৪৫), মামুন (২৯), মিঠু ওরফে আমির হোসেন (৩০), আবদুর রহমান ওরফে আবদুল্লাহ (১৯), মো. সুমন মিয়া (৩০), আরিফ মিয়া (২২), মোস্তাক মিয়া (২০), সাইম হোসেন (২০), জাহিদ হাসান (১৯) ও শাহীন হোসেন ইমন (২০)। তাঁরা নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে ভাটারা থানার এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৪ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘এম’ ব্লকের ২৮ নম্বর সড়কের একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগ এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁরা ওই বাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আলট্রা মুঠোফোন ও তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। জব্দ করা ব্যানারে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের কথা লেখা ছিল। পুলিশ জানায়, ব্যানারে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ছবিও ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁরা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।