রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সাইনবোর্ড টানানো হয়েছিল। মিরপুর, ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সাইনবোর্ড টানানো হয়েছিল। মিরপুর, ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: ছাত্রদল, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৯ জন

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল শনিবার অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে আলোচিত এ ঘটনায় গত ৯ দিনে মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাকিব আহমেদ সোহেল (৪৬), সারোয়ার আলম পিয়াস (৩৫) এবং সাজ্জাদ হোসেন মিশু ওরফে মোল্লা (৩৬)। তাঁদের মধ্যে দুজন ছাত্রদল ও একজন যুবদলের নেতা বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হামলায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব বলেন, হামলায় সম্পৃক্ততা থাকায় তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। পরে শনিবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। পরে ওষুধ, টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুট করে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় শুরু থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের অনেকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় গত বৃহস্পতিবার ফেরদৌসী আহমেদ পদত্যাগ করেন।

এর আগের দিন বুধবার রাতে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডায় হামলার কথা উল্লেখ করা হয়নি। বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ছয়জন বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের

সারোয়ার আলম ও রাকিব আহমেদ

স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১৯ জনের মধ্যে পাঁচজন বিএনপি ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতা–কর্মী।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম খোকন (৪৮) শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য এবং মো. আলম (৫৩) শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি। গত বুধবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার হন শাহ আলী থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সভাপতি নূর আলম। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চার বছর আগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তার তিনজনে সাজ্জাদও ছাত্রদলের সাবেক নেতা।

শনিবার গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে রাকিব আহমেদ শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সারোয়ার আলম ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং সাজ্জাদ হোসেন মিশু শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য। সাজ্জাদ কথিত জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের ঢাকা জেলা শাখার সহসভাপতি হিসেবেও নিজেকে পরিচয় দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। সারোয়ারকে গত বুধবার বহিষ্কার করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সরাসরি এ ঘটনায় জড়িত। ঘটনাস্থলে তাঁদের উপস্থিতির তথ্য নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া যে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, সেই সমিতির চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন সমিতির সম্পাদক শাহ আলম ও অফিস সহকারী শাহাদাত। বাকি দুজন সমিতির সদস্য আতিকুর ও কামরুল।

এ ছাড়া যে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটি বহন করা বড় গাড়ির (লোবেড) চালক শহীদুল ইসলামকেও (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টাকার বিনিময়ে তাঁরা ভাঙচুরে অংশ নেন। বাকি পাঁচজনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে এ ঘটনার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা হয়েছে। সবাই গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তারা গা ঢাকা দিয়ে আছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।