আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ট্রাইব্যুনালে জুলাই আহতের জবানবন্দি

‘আমি বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হই, দায়ী মেনন–কামরুল’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্দোলনে কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেই বিবরণ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মো. নবী হোসেন। ওই ঘটনার জন্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে কাঠগড়ায় সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন নবী হোসেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় এ দুই আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পেশায় গ্রিলমিস্ত্রি নবী হোসেন জবানবন্দিতে বলেন, সরকার জুলাই যোদ্ধাদের যে গেজেট প্রকাশ করেছে, সেখানে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে তাঁর নাম রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাক্ষী নবী বলেন, সেদিন তিনি মেরুল বাড্ডার ১৫ নম্বর সড়কে আন্দোলনে অংশ নেন। দুপুরে শিক্ষার্থীরা মূল সড়কে যেতে চাইলে পুলিশ সড়কটি ঘিরে রাখে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মূল সড়কে উঠলে পুলিশ, র‍্যাব, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজন তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। নবী হোসেন ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাঁর শরীরে এখনো প্রায় ১৫০টি পিলেট (ছোট ধাতব দানা) রয়েছে। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি নিজের শরীরে থাকা গুলির চিহ্ন ট্রাইব্যুনালকে দেখান।

১৯ জুলাইয়ের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে নবী হোসেন বলেন, সেদিন উত্তর বাড্ডায় একজন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একজন এবং মধ্য বাড্ডায় আরও একজন নিহত হন। আহত হন অনেক মানুষ। সেদিন তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের রিকশা ও ভ্যানে তুলে হাসপাতালে পাঠান। তবে রাস্তায় প্রচুর রক্ত দেখে অসুস্থ বোধ করায় একপর্যায়ে বাসায় ফিরে যান।

নবী হোসেন এ ঘটনার জন্য মেনন ও কামরুলের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দায়ী করেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন।