
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ প্রকৌশলী আবদুর রহমান সানির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে দুটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) ইউনিট। পরে কাকন রানা (৩৫) নামের ওই যুবকের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গতকাল রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাকন রানাকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসির ‘ই-ফ্রড ইনভেস্টিগেশন টিমের’ একটি দল। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ছয়টি মুঠোফোন ও সাতটি সিম উদ্ধার করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবদুর রহমান সানির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে দুটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগে বনানী থানায় একটি মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সিটিটিসি জানায়, কাকন রানার ব্যবহৃত মুঠোফোন পরীক্ষা করে আবদুর রহমান সানির নামে তৈরি দুটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ ৫০টির বেশি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগইন অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে জুবাইদা রহমান এবং আবদুর রহমান সানির নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় আজ কাকন রানার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিটিটিসি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এসআই মো. বিপুল হোসেন সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার কাকন রানা প্রাথমিকভাবে ভুয়া আইডি খোলার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানি ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে তৈরি একাধিক ভুয়া ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, অপরাধের আসল উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন, সহযোগী বা অপরাধ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ও সিম উদ্ধারে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট নজরে এলে আবদুর রহমান সানির পক্ষে বনানী যুবদলের আহ্বায়ক মো. মইনুল ইসলাম রনি গতকাল রোববার বনানী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।
মামলার বাদী মইনুল ইসলাম রনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেক আইডি ও প্রতারণার বিষয়টি আমার নজরে আসে। পরে আমি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করি। আসামি গ্রেপ্তার হলে মামলা করি।’