রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এক শিশুকে পেটানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এক শিশুকে পেটানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে

ভিডিও ভাইরাল

নির্দয়ভাবে শিশুটিকে পেটানোর ঘটনাটি ঢাকার মিরপুরের, শনিবার বিকেলের

মানুষের ভিড়ের মধ্যে একটি মেয়েশিশুর এক হাত ধরে কোমরের বেল্ট দিয়ে একের পর এক আঘাত করছেন এক ব্যক্তি। পাশ দিয়ে ছুটে চলছে যানবাহন। আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন দেখছেন নীরবে। একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর শিশুটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকে টেনে মার্কেটের দিকে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে ধরা পড়ে নির্দয় এই দৃশ্য।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি ঢাকার মিরপুরের। গত শনিবার মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে পেটানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁর নাম মো. রিপন মণ্ডল (৩৬)। তিনি মিরপুর শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মী। বর্তমানে পুলিশের পাহারায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কেটের সামনের রাস্তায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে নেভি ব্লু শার্ট ও কালো রঙের ফুলপ্যান্ট পরা ব্যক্তি এক হাত দিয়ে শিশুটির একটি হাত ধরে আছেন। অন্য হাতে থাকা বেল্ট দিয়ে নির্দয়ভাবে শিশুটিকে পেটাচ্ছেন তিনি।

এই ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শিশুকে মারধরের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল হোসেন আজ সোমবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ঘটনাটি শনিবার বিকেলের। শিশুটিকে পেটানো ব্যক্তি রিপন মণ্ডল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে রিপন মণ্ডল পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেন, শিশুটি মার্কেটের একটি দোকান থেকে মুঠোফোন চুরি করেছে। এ জন্য তিনি তাকে পিটিয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেলে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হন।

পুলিশ কর্মকর্তা দুলাল হোসেন বলেন, রিপন মণ্ডলের কথা সত্য কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তাঁকে হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে।

রিপন মণ্ডল সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি দুলাল হোসেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটিরও সন্ধান করছে পুলিশ।