বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে আজ মঙ্গলবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়
বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে আজ মঙ্গলবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়

গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় জামিন পেলেন বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর

গৃহকর্মী শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় করা একটি মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩-এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত আজ মঙ্গলবার আসামিকে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. খোরশেদ আলম তাঁর মক্কেলের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি খুবই নিরীহ ও সহজ-সরল ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশের একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে সম্মানজনক পদে ছিলেন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর জামিন প্রার্থনা করা হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ওই গৃহকর্মীর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আসামি সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বীথির বাসার নিরাপত্তাপ্রহরী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর (বাদী) পরিচয় হয়। সেই সূত্রে জাহাঙ্গীর জানতে পারেন তাঁর একটি ছোট্ট মেয়ে রয়েছে। তখন জাহাঙ্গীর তাঁকে জানান, এই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট একটি মেয়ে বাচ্চা খোঁজা হচ্ছে। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে সাফিকুর ও বীথির সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জানান, যাকে রাখবে, তার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ তাঁরা বহন করবেন। এতে রাজি হয়ে গত বছরের জুন মাসে তিনি তাঁর ১১ বছর বয়সী মেয়েকে এই বাসায় কাজে দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় তিনি সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। তবে এরপর তিনি সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও পরিবারটি নানা অজুহাতে দেখা করতে দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে বীথি তাঁকে ফোন করে জানান, তাঁর মেয়েটি অসুস্থ। তাকে নিয়ে যেতে। তিনি দুইটার দিকে মেয়েকে আনতে যান। তখন বীথিকে ফোন করলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বীথি সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির বাইরে তাঁর কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, বাদী মেয়েকে পাওয়ার পর দেখেন তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। কীভাবে এমন হলো, জানতে চাইলে বীথি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়ে তাঁকে জানায়, গত ২ নভেম্বর তিনি দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে সাফিকুর রহমান, বীথিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাঁকে মারধর, খুন্তি গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে বাদী এসব নিয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন। ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথি ও বাসার দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। পরে ৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ নির্যাতনের ঘটনায় সাফিকুরকে বিমানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় সরকার। আজ সাফিকুরের জামিন মঞ্জুর হলেও বাকি তিনজন কারাগারে রয়েছেন।