রাজধানীর ওয়ারীতে এক শিক্ষার্থীকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম সুভাষ দেউরী (২৫)। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুভাষ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার সেন্ট্রাল ল কলেজের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
সুভাষের পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ, সোমবার রাতে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। সুভাষের বোন জয়া দেউরী বলেন, সোমবার রাত একটার দিকে তাঁর ভাইয়ের নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোন ধরেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। তিনি ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে সুভাষ নিজেই কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। তিনি জানান, টাকা না দিলে তাঁকে মেরে ফেলা হবে। পরে পরিবারের সদস্যরা টাকা জোগাড় করে একটি নম্বরে ২৬ হাজার টাকা পাঠান।
সুভাষের রুমমেট দুর্জয় সাহা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুভাষের নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি। রাতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে যান। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসায় ফেরার পথে নারিন্দা রোডের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে সুভাষকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সঙ্গে মুঠোফোন বা মানিব্যাগ ছিল না।
দুর্জয়ের ভাষ্য, হাসপাতালে নেওয়ার পর সুভাষ তাঁকে জানিয়েছেন, রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা চাইতে বাধ্য করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি চিকিৎসাধীন।
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খবর পেয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এদিকে নির্যাতনের শিকার সুভাষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সদস্যসচিব অনিক কুমার দাস। পোস্টে তিনি লিখেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের সদস্যসচিব হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে ঘটনায় আহত ব্যক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী নন এবং তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের নিয়োগপ্রাপ্ত পুরোহিতও নন। তাঁর ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, যার সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।