নিহত পুলিশ সদস্য মো. আলতাব হোসেনের পরিচয়পত্র
নিহত পুলিশ সদস্য মো. আলতাব হোসেনের পরিচয়পত্র

সাভারে এসআই আলতাব হত্যা: মুন্সিগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত চার আসামি গ্রেপ্তার

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাব হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রোববার রাতে র‌্যাবের পাঠানো এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সোমবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে। সেখানে ব্রিফ করবেন র‌্যাব-১০-এর কর্মকর্তারা।

এর আগে শনিবার রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় দুই ছেলের পোশাক কারখানায় ঢুকে এসআই আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর ছোট ছেলেকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর করা মামলায় এর আগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

নিহত মো. আলতাব হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার পর তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা আছে। গত শনিবার রাত আটটার দিকে তাঁদের কারখানা–সংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে আলতাবের পরিবারের ভাষ্য।

আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকেরা ওই গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হলে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। এরপরও তাঁকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।

কারখানায় থাকা ছোট ছেলে আরিফুল বাবার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর আরিফুল ও তাঁর বাবা কারখানার বাইরে বের হন। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের ভাষ্য, গাড়িটিতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার ছুটি থাকায় তাঁর বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার আছে, যেটা তাঁদের কারখানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। গাড়িতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকেন। তাঁদের কারখানার বাঁ পাশে একটা জায়গায় বালু ফেলায় একটা মাঠের মতো হয়েছে। সেখানে তাঁরা নেশা করেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।