
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান শফিক নামের এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে হলি ফ্যামিলি অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পাশের এলাকা থেকে শফিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. জিয়াউল হক। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার সাদ্দাম হোসেন (২৭) বাদী হয়ে ৮ জুলাই শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন। মামলায় হাফিজুর রহমান শফিক (৩৮), মো. ফজলুল হক (৩৫), মো. লিটন মিয়া (৪৭) ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে বাদীর ও তাঁর পরিবারের পূর্বশত্রুতা ছিল। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন। এতে বলা হয়েছে, সাংবাদিক পরিচয়ে হাফিজুর রহমান শফিক বিভিন্ন সময় বাদীর কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে শফিকের ফেসবুক পেজ থেকে বাদীকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় এবং আবারও টাকা দাবি করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, অপর দুই আসামি ওই ভিডিও নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে বাদীর ব্যক্তিগত সুনাম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি সহযোগীদের সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে জামিন দেওয়া হলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ মামলার বাদী সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাকে হুমকি দিত। নিউজ করার ভয় দেখিয়ে টাকা চাইত। এআই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন অনিবন্ধিত পোর্টালে ও পেজে আমার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাত। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দিত। এ জন্যই আমি মামলা করি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক মামলা আছে। আদালতে আবেদনের পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য পরে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।