রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে একদল ব্যক্তির হামলায় সিফাত উল্লাহ (৩০) নামের কাতারপ্রবাসী এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলাকারীদের দুজনও আহত হয়েছেন।
আজ রোববার বেলা সোয়া তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাত উল্লাহকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত যুবকের ওই বান্ধবী বলেন, বিকেলে তাঁর বন্ধু সিফাত বাসায় দেখা করতে এসেছিলেন। এ সময় ওই এলাকার জয়, রাজিব, ইয়াসিনসহ ছয় থেকে সাতজন তাঁদের বাসায় ঢুকে সিফাতকে জোরপূর্বক ধরে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। হামলাকারীদের মধ্যে রাজিব ও ইয়াসিন নামের দুজনও আহত হন।
একই ঘটনায় আহত রাজিব ওরফে রাব্বি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে বলেন, বরইতলার ওই বাসায় ‘অনৈতিক’ কাজ চলছিল—এমন খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে যান। এক যুবক তাঁদের ওপর তেড়ে এলে তাঁরা এগিয়ে যান। পরে ধস্তাধস্তি ও মারামারি হয়। এতে তাঁরা আহত হন।
তবে নিহত ব্যক্তির বান্ধবী বলেন, ধোলাইপাড়ের বাসিন্দা সিফাতের সঙ্গে তাঁর দুই বছর ধরে সম্পর্ক। সামনে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বদরুন্নেসা কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী। যে বাসায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি তাঁর এক বড় বোনের বাসা। তিনি বলেন, জয় এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে ওই বাসায় বন্ধুদের নিয়ে এসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে তাঁদের ওই বাসায় না আসতে বলেছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা সিফাতের বন্ধু হাসান বলেন, সিফাত উল্লাহ কাতারপ্রবাসী ছিলেন। সেখানে ব্যবসা করতেন। তাঁদের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তাঁর বাবার নাম জয়নাল আবেদীন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সিফাত ছোট ছিলেন।
সিফাতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সবুজবাগ থানাকে জানানো হয়েছে বলে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।