রাকিবুল ইসলাম
রাকিবুল ইসলাম

শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তরুণ নিহত

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে রাকিবুল ইসলাম (২৫) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শাহবাগ থানা-পুলিশ জানায়, রাত সোয়া নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় তিন-চারজন যুবক তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে রাকিবকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেন, গুরুতর আহত রাকিবকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। পরে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত রাকিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম তারিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী। পরিবার নিয়ে রাজধানীর নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকতেন। রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

রাকিবের বন্ধু আলামিন বলেন, রাতে বন্ধুরা মিলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে রাকিবকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও গুলি করে পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের মর্গের সামনে আহাজারি করছেন রাকিবুল ইসলামের বাবা তারিকুল ইসলাম

রাত ১০টার সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে একটি জায়গায় রক্তের দাগ দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী জুবায়ের হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, তিনজন এসে প্রথমে রাকিবকে গুলি করে। পরে একজন চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। তাঁদের একজনকে স্থানীয় লোকজন চাপাতিসহ ধরে শাহবাগ থানায় দেন।

রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায়, মর্গের বাইরে রাকিবের বাবা তারিকুল আহাজারি করছেন। জরুরি বিভাগের সামনে মাতম করতে দেখা যায় রাকিবের মা রাজিয়া বেগমকে। তিনি মাতম করছেন আর বলছেন, ‘আঁর রাকিবরে আইনা দে, রাকিবরে একটু দেকমু। আমার বাবারে কে করলো এ কাম।’