মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

দুদকের মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ১১ কাস্টমস কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ১১ আসামি হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে গত ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিন আদালত তাঁদের জামিন বর্ধিত করে ধার্য তারিখ পর্যন্ত বহাল রাখেন। আজ তাঁরা স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পাল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, পাঁচটি দেশে রপ্তানির নামে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা মানি লন্ডারিং ও প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গত ২৩ নভেম্বর মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রপ্তানি দেখিয়ে ‘দো এম্পেক্স লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা করেন। শুধু তা–ই নয়, ৩৪টি রপ্তানি চালানের মূল্য বাবদ প্রণোদনা হিসেবে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে কোনো রপ্তানি হয়নি।

মামলায় আরও বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দো এম্পেক্স লিমিটেড মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিলে সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে সাতটি বিল অব এক্সপোর্টের বিপরীতে কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির সত্যতা পাওয়া গেলেও বাকি ৩৪টির বিপরীতে কোনো পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়নি। অথচ রপ্তানির বিপরীতে অগ্রিম হিসেবে পুরো অর্থ অর্থাৎ ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭ দশমিক ৪৪ মার্কিন ডলার অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা। ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।