সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা
সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা

খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুর ট্রাক

সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল কারাগারে, রিমান্ড শুনানি বৃহস্পতিবার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তাঁর গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পিপার স্প্রে ব্যবহার করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এই আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোখতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে আগামীকাল রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ আসামিকে হাজতখানায় আনা হলেও আদালতের শুনানিতে হাজির করা হয়নি।

এর আগে গত গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন ডিবির গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়ক হবে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর ১১১ জনকে এজাহারভুক্ত করে মামলাটি করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি জগলুল এই মামলার ১৭ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। এ মামলায় মোট চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০–৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে অবস্থান করে সারা দিন থাকেন। দিনভর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীদের মারধর করেন। আসামিরা রাস্তার ওপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। জনসাধারণের চলাচলে এবং খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগদান করতে না পারেন, সে জন্য রাস্তার ওপর ত্রাস সৃষ্টি করেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে (মার্চ ফর ডেমোক্রেসি) যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেন এবং বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেন। খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করার পরেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে ব্যবহার করেন। এতে খালেদা জিয়াসহ তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা–কর্মীরা আহত হন।