রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল হত্যার ঘটনায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার আসামির নাম মমিনুল ইসলাম ওরফে মিঠু (৩২)।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের ২ নম্বর গলি থেকে র্যাব-২–এর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডে সাতজনকে গ্রেপ্তার করল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে আসামি মমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আসাদুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২২ সালে হাজারীবাগ থানায় মানব পাচার আইনে আরেকটি মামলা রয়েছে।
গত বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে সাদেক খান ইটখোলা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আসাদুল মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ে থাকতেন। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত এক সপ্তাহে রায়েরবাজার এলাকায় এটি ছিল দ্বিতীয় খুনের ঘটনা।
ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে নিহত আসাদুলের প্রতিপক্ষ আকতার হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল দুপুরে আরেক আসামি মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে নিহত আসাদুলের চাচাতো বোন অঞ্জু আক্তার বাদী হয়ে গত শুক্রবার নয়জনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, কয়েক বছর ধরে ইটখোলা এলাকায় ইয়াবার কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আসাদুল। তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাধে ওই এলাকার আরেক মাদক কারবারি মো. আকতার হোসেনের। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই গত বুধবার গভীর রাতে তাঁকে ফোন করে ডেকে এনে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে শনিবার গ্রেপ্তার ছয় আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত। আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আক্কেল আলী। আসামিরা হলেন মো. আকতার হোসেন (৪৫), মো. মুন্না (২৪), মো. মিরাজ ফকির (২২), মো. নয়ন ওরফে খোকন (২৪), মো. আসাদুল ইসলাম (২৫) ও মো. শাওন (২৭)।
হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। সেখানে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।